স্ত্রীর দেওয়া উপহারের অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে রাস্তায় শংকর

120

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : ঘড়িতে তখন রাত বারোটা দশ। কোচবিহার শহরের চারদিক নিস্তব্ধ। রাস্তার কুকুর ছাড়া আর কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। দূর থেকে দেখা গেল, স্কুটার চেপে দুই যুবক অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছেন। স্কুটারের সামনে লেখা রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার পরিষেবা। আর চালকের আসনে শংকর রায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফোন নম্বর পেয়ে এক ব্যক্তি ফোন করেছিলেন শংকরবাবুকে। কোচবিহার শহর সংলগ্ন মদনমোহন কলোনি থেকে স্কুটারে চেপে কোচবিহার শহরের নরেন্দ্রনারায়ণ রোড এলাকায় ওই ব্যক্তির বাড়িতে অক্সিজেন নিয়ে হাজির শংকরবাবুর টিম। এভাবেই করোনা পরিস্থিতিতে অক্সিজেন নিয়ে মানুষকে ভরসা দিচ্ছেন শংকরবাবু ও তাঁর সঙ্গীরা। আর তাঁর এই সেবামূলক কাজের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে স্ত্রী জুলি রায়ের নামও। স্ত্রীর জমানো টাকা দিয়ে কেনা সিলিন্ডার ও অক্সিমিটারই এখন প্রধান হাতিয়ার পেশায় ট্যাক্সিচালক শংকরবাবুর।

কয়েকদিন আগে শংকর ও জুলি রায়ের ২৫তম বিবাহবার্ষিকী ছিল। বাড়ির পাশেই ছোট মুদির দোকান রয়েছে জুলিদেবীর। দোকানের উপার্জন থেকে এতদিন যা জমিয়েছিলেন তা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিমিটার, স্যানিটাইজার স্প্রে মেশিন, মাস্ক ও স্যানিটাইজার সহ অন্য সামগ্রী স্বামীর সংগঠনের হাতে তুলে দেন তিনি। তারপর থেকেই কাজ শুরু শংকরবাবুর। স্ত্রীর থেকে উপহার পাওয়া অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অক্সিমিটার নিয়ে এখন শংকরবাবু তাঁর সঙ্গী বিপ্লব বর্মন, চিরঞ্জীব মৈত্রকে নিয়ে ছুটে চলেছেন কোচবিহার শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। শহর ছাড়িয়ে কখনও পাতলাখাওয়া, আবার কখনও টাকাগাছে। হাসপাতাল এলাকার রোগীর পরিজনদের বিনামূল্যে খাবার বিতরণ, ভবঘুরেদের খাবার বিতরণ, স্যানিটাইজেশন করেছেন তাঁরা।

- Advertisement -

শংকরবাবু পেশায় ট্যাক্সিচালক। লকডাউনের কারণে পেশায় টান পড়েছে। কিন্তু তাতে কী? ইচ্ছেশক্তি যে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, তা প্রমাণ করে দিচ্ছেন শংকরবাবু। তাঁর স্ত্রী জুলি রায় বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়াতে উনি কাজ করছেন। সেই যুদ্ধে আমি সবসময় ওঁর পাশে আছি। ওঁর জন্য আমার গর্ব হয়। শংকরবাবু অবশ্য বলেন, করোনাকে হারাতে আমরা একসঙ্গে বুক বেঁধেছি। সেজন্য প্রতিটি সংগঠনের সহযোদ্ধারা বিভিন্নভাবে প্রশাসনকে সাহায্যের চেষ্টা করছি।