গাছ তলায় ক্লাস শুরু করল শান্তিনগর বিদ্যামন্দির

301

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়,আসানসোল: লকডাউনের কারণে তিনমাসের বেশি স্কুল বন্ধ রয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকরা পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্লাস করাচ্ছেন৷ কিন্তু গ্রাম এলাকায় থাকা অনেক পড়ুয়াদের সেই সামর্থ্য নেই। তাই বঞ্চিত পড়ুয়াদের গ্রামে গিয়ে খোলা আকাশের নীচে পড়ালেন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকারা। বৃহস্পতিবারই এমন এক অভিনব কর্মকাণ্ড হয়ে গেল আসানসোলের বার্ণপুরের বড়থল গ্রামে। অভিনব এই পাঠদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) প্রশান্ত মণ্ডল।

করোনা ভাইরাসের কারণে সেই মার্চ মাস থেকে টানা লকডাউন চলার পরে ১ জুন থেকে আনলক শুরু হয়েছে। এই সময়ে স্কুল কলেজ, সহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাইভেট বা বেসরকারি স্কুলগুলির পড়ুয়ারা মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করতে পারলেও, তিনমাসেরও বেশি সময় ধরে পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত রয়েছে সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া গ্রামাঞ্চলের পড়ুয়ারা একেবারেই বঞ্চিত এই ডিজিটাল পঠনপাঠন থেকে।

- Advertisement -

সেইসব পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্কুলের শিক্ষকদের গ্রামে গিয়ে খোলা আকাশের নীচে পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর সেই পরামর্শকে প্রথম বাস্তবে কার্যকর করে দেখালেন বার্ণপুরের শান্তিনগর বিদ্যামন্দিরের শিক্ষক ও শিক্ষিকারা। পাঠ্য বইয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি, আসানসোল জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের ইনচার্জ চিকিৎসক ডাঃ সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলার পাঠ দিলেন সেইসব পড়ুয়াদের। বিশিষ্ট ক্রীড়াবীদরা পাঠ দিলেন শরীরচর্চারও। সব শেষে ছিল স্কুলের মিড ডে মিলের মতো মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন। সেই দায়িত্বে ছিল বার্ণপুর নববিকাশ ক্লাব।

এদিন সকালে গ্রামের গাছের নীচে পড়ুয়াদের জন্য সেই অভিনব স্কুল শুরু হয়। বিভিন্ন সেকসেন ভাগ করে বাংলা, বিজ্ঞান, অঙ্ক, শরীরচর্চার ক্লাস নেওয়া হয় এদিন। এমনকি পর্দায় অ্যানিমেশনের মাধ্যমেও ক্লাস করানো হয়। হাতের সামনে অভিনব এমন স্কুল বা পড়া পেয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে অভিভাবকরাও খুশি হন। এদিন ২৯৫ জন পড়ুয়া এই পঠন পাঠনে অংশ নেয়।

অর্পিতা মণ্ডল নামে এক পড়ুয়া বলে, তিনমাস পর আবার এমনভাবে স্কুলের মতো করে পড়াশোনা করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সব বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা হল এক সঙ্গে কতদিন পরে।

স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে পাঠদান পর্ব শুরু হল। যেখানে স্মার্টফোন নেই, প্রযুক্তির ব্যবহার নেই সেখানে গিয়ে এই ধরণের পাঠদান চলবে।

অতিরিক্তি জেলাশাসক প্রশান্ত মণ্ডল বলেন, অভিনব এই উদ্যোগ দেখে আমার শান্তিনিকেতনের কথা মনে পড়ে গেল। আমরা চাইবো শান্তিনগর বিদ্যামন্দির মতো আসানসোলের অন্য স্কুলগুলিও এইরকমভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকার পড়ুয়াদের পাঠদান করতে এগিয়ে আসুক।