দশভুজা হয়ে সংসার চালান প্রতিবাদী শর্মিলা

শুভদীপ শর্মা, ময়নাগুড়ি : গ্রামে মদ বিক্রির বিরোধিতা হোক, কিংবা সংসারের দাযিত্ব- দশভুজা হয়ে নজির গড়েছেন ময়নাগুড়ির শর্মিলা রায়। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে নিরুদ্দেশ হয়ে যান তাঁর স্বামী। ছোট্ট মেয়ে ও ছেলেকে কোলে করে হাজির হয়েছিলেন অভাবী মায়ের কাছে। লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে মেয়েকে কলেজে, ছেলেকে স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন শর্মিলা।

ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন শর্মিলা। মা সিদ্ধেশ্বরী রায় পরিচারিকার কাজ করে শর্মিলাকে বড় করে তুলেছিলেন। ময়নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের দাড়িভিজা গ্রামের শর্মিলার বছর ১৮ আগে বিয়ে হয় শিলিগুড়ির সিন্টু রায়ের সঙ্গে। বছর দশেক আগে পেশায় গাড়ির চালক সিন্টু নিরুদ্দেশ হয়ে যান। কোলে থাকা মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ও ছেলে সমীরকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে উঠতে বাধ্য হন শর্মিলা। সেই থেকে শুরু তাঁর জীবন সংগ্রাম। সংসার চালাতে মায়ের সঙ্গে পরিচারিকার কাজ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে খুবই অসুস্থ সিদ্ধেশ্বরীদেবী। সংসার চালাতে একমাত্র ভরসা শর্মিলাই। এরই মাঝে করোনার প্রকোপে বেশ কয়েকটি বাড়ি থেকে পরিচারিকার কাজ হারাতে হয়েছে তাঁকে। তবে ভেঙে পড়েননি শর্মিলা। এতদিনে যা উপার্জন করেছিলেন তা দিয়ে বাড়ির সামনে একটি ছোট দোকান খুলেছেন। আলু-পেঁয়াজ থেকে শুরু করে বিস্কুট, চকোলেট প্রভৃতি সামগ্রী নিয়ে দোকান দিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ময়নাগুড়ি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ছেলে সমীর ময়নাগুড়ি সুভাষনগর হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। দুজনের পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি মায়ের প্রতিদিনের ওষুধের জোগান দিতে হয় শর্মিলাকে। যেখানে শর্মিলার বাড়ি তার পাশেই অবৈধ মদ বিক্রির কারবার চলে। এই অবৈধ মদ বিক্রির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু তাতেও বিন্দুমাত্র দমেননি তিনি। বরং শর্মিলার প্রতিবাদের জেরে গ্রামে এখন মদ বিক্রির পরিমাণ অনেক কমেছে।