জলের আশায় সাতবছর কর দিচ্ছে শাস্ত্রীনগর

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : নির্দিষ্ট সময়ে কলকাটি মল্লিক, ওমবাহাদুর পুরীরা পুরনিগমে গিয়ে জলকর দিয়ে আসেন। এখন জল না মিললেও আগামীদিনে জল মিলবে সে আশাতেই তাঁরা জলকর দিয়ে আসছেন। এভাবে কেটে গিয়েছে সাতটা বছর। জলকর দিলেও জল অবশ্য মেলেনি। দিনের পর দিন জল না পেয়ে ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধরা অনেক দূর থেকে কখনও সাইকেলে, কখনও বালতিতে জল ভরে বাড়ি নিয়ে আসছেন। পুরনিগম বিষয়টি জানে না, তা নয়। একাধিকবার ডেপুটেশনও দেওয়া হয়েছে। তবুও এভাবেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের শাস্ত্রীনগরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলকষ্টে ভুগছে।

শাস্ত্রীনগরে হাজারেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি বাড়িতে নেওয়া হয়েছে পানীয় জলের সংযোগ। একসময় সব ঠিকঠাকই চলছিল। জলের ফোর্স কিছুটা কম হলেও কোনওভাবে চলে যাচ্ছিল। তবে মিনা রায়, খুশবু রায়দের জল-ভাগ্য ভালো ছিল না। এলাকার মাদার টেরেজা রোড, স্বামী বিবেকানন্দ রোড ছাড়াও আশপাশের এলাকায় ফোর্স কমতে কমতে জল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খুশবুদেবীরা জানান, এরপর সাতটা বছর পেরিয়ে গিয়েছে। জল আর আসেনি। এদিন সকালে হেঁটে বালতি করে জল নিয়ে আসছিলেন ওমবাহাদুর পুরী। তিনি বলেন, জল পাওয়ার আশায় নির্দিষ্ট সময়ে পুরনিগমে গিয়ে জলকর দিয়ে আসছি। রোজই ভাবি, পরের দিন সকালে কলের থেকে জল পড়বে। কিন্তু সেটা হয় না। তিনি বলেন, কোনওদিন বোতল কোম্পানি মোড়, কোনওদিন ওয়ার্ডেরই রাধাকৃষ্ণ কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে জল আনতে হয়। হেঁটে বালতিতে জল ভরে আনতে কষ্ট তো হয়ই।

- Advertisement -

কষ্ট হয় বছর পঁয়ষট্টির কলকাটি মল্লিকেরও। তিনি বলেন, অনেক সময় জল নেওয়ার ভিড় বেশি হয়ে গেলে হায়দরপাড়ায় যাই। যে পরিমাণ জল নিয়ে আসি, বিশেষ করে গরমের সময় সেটা শেষ হয়ে গেলে বিপদটা আরও বেড়ে যায়। মিনা রায় বলছিলেন, প্রতিবারই জলকর দিতে যাওয়ার সময় জল না আসার বিষয়টি পুরনিগমে জানাই। বলা হয় জল চলে আসবে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আমরা গণস্বাক্ষর করে ডেপুটেশনও দিয়ে এসেছি। রাস্তায় প্রতিবাদ পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিনই সেই এক বালতি জলের জন্য এই পাড়া, ওই পাড়া ছুটতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটর রবি রায় বলেন, ওই সমস্ত এলাকায় জলের লাইনটা পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে রয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগে বেশ কয়েকবার জানিয়েছি। তবে আশার কথা হল, পুরনিগম ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে জলের ট্যাংকের কাজ শুরু করেছে। সেই কাজ হয়ে গেলে এলাকার এই সমস্যা দূর হবে বলে আশা করছি।