পাইকারদের দখলে শেড ঘর, ব্যাপক ক্ষোভ জামালদহের কৃষক মহলে

322

জামালদহ: সুপার মার্কেটে একাধিক শেড ঘর রয়েছে। অভিযোগ, সেগুলি পাইকারদের দখলে চলে গিয়েছে। ফলে, খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে কৃষিজ পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। এই নিয়ে কৃষকমহলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের অন্যতম একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হল জামালদহ বাজার। স্থানীয় সুটুঙ্গা নদীর ধারে অবস্থিত এই বাজারের সুপার মার্কেটে কৃষিজ পণ্য কেনাবেচার জন্য রয়েছে পাঁচটি শেড ঘর। কিন্তু সেগুলি কৃষকরা ব্যবহারের সুযোগ পান না। অভিযোগ, পাইকার ও ফড়েদের দখলে চলে গিয়েছে সুপার মার্কেটের সমস্ত শেড ঘর। ফলে ঝড়-বৃষ্টি, চড়া রোদ সহ্য করেই কৃষকদের খোলা আকাশের তলায় দাঁড়িয়ে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকদের এই দুর্ভোগ বছরের পর বছর ধরে পোহাতে হচ্ছে। অথচ, এই নিয়ে পঞ্চায়েত-প্রশাসনের কেউই ভাবিত নন বলে কৃষকদের ক্ষোভ চরমে উঠেছে। অবিলম্বে পাইকারদের হটিয়ে শেড ঘরগুলি তাঁদের জন্য ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার দাবি তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

- Advertisement -

এ বিষয়ে জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গীতা বর্মন বলেন, ‘জামালদহ সুপার মার্কেটের নানা সমস্যা রয়েছে। সেগুলি মেটানোর চেষ্টা চলছে। কৃষকরা শেড ঘর কেন ব্যবহার করতে পারছেন না, সে বিষয়েও খোঁজ নিয়ে দেখব।’ অন্যদিকে, মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি জানা নেই। গ্রাম পঞ্চায়েতকে খোঁজ নিয়ে দেখতে বলেছি।’

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহে দুদিন মঙ্গল ও শুক্রবার জামালদহের সুপার মার্কেটে হাট বসে। হাট বারে ধান, গম, তামাক, পাট, সুপারি সহ কৃষকদের উৎপাদিত নানা ফসল বিক্রি হয়। পাশাপাশি, হাঁস-মুরগি ও গোরু-ছাগলও কেনাবেচা হয় সাপ্তাহিক হাটবারগুলিতে। সবটাই চলে খোলা আকাশের নিচে বসেই। অথচ, সুপার মার্কেট চত্বরে পাঁচ-পাঁচটি শেড ঘর রয়েছে। কিন্তু সেগুলি সাধারন কৃষকরা ব্যবহার করতে পারেন না। পাইকার ও ফড়েদের দখলে সেগুলি চলে গিয়েছে। বিভিন্ন কৃষিজ কিনে সেই শেড ঘরগুলিতেই মজুত করে রাখেন পাইকাররা। দিনের পর দিন ধরে এমন চলছে।

যদিও, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পাইকারের বক্তব্য, শেড ঘরগুলি ফাঁকাই পড়ে থাকে। তাই মাঝে মধ্যে তা ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া, এই নিয়ে কোনও পক্ষ থেকে এতদিন বাধাও আসেনি। এখন কেউ ব্যবহার করতে চাইলে ছেড়ে দেওয়া হবে। সমস্যার কিছু নেই।