সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : পড়াশোনোর পাশাপাশি ফুটবলার গড়ার অদম্য বাসনায় রোজ ৭০ কিলোমিটার দূর থেকে ছুটে আসেন, এমন মানুষেরও দেখা পাওয়া যায়। নাম শিবশংকর পাল। বয়স ৫৮ ছুঁইছুঁই। জন্মভিটে কুশমণ্ডি হলেও বর্তমানে মালদার বাসিন্দা। ছোট থেকেই ফুটবল ছিল তাঁর ভালোবাসা। ফুটবল মাঠকে ঘিরে নিজের জীবন তৈরি না হলেও সেই বাসনা পূরণে এখন প্রায় রোজ সকাল ছটার মধ্যে মালদা থেকে ৭০ কিলোমিটার পেরিয়ে হাজির হয়ে যান কুশমণ্ডি উচ্চবিদ্যালয়ে ফুটবল মাঠে। লক্ষ্য একটাই, নিজের জন্মভিটে থেকে ফুটবলার তৈরি করা। নিজের হাতে তৈরি করেছেন ইয়ংমেন্স ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আট থেকে ১৮ বছরের ৮০ জন খুদে ফুটবলার তৈরি হচ্ছে তাঁর প্রশিক্ষণে।

ফুটবলের সঙ্গে শিবশংকরবাবুর পরিচয় ১৯৭৭ সালে। স্বনামধন্য ফুটবলার ল্যাংচা মিত্রের কাছে তালিম নেওয়ার পর বাণীপুর থেকেও নিয়েছেন প্রশিক্ষণ। তাঁর এই কাজে মালদার ফুটবলার তাপসকুমার দে ওরফে বাপি ছাড়াও কুশমণ্ডির সুমিত বর্মন, পাপাই বর্মন, বুম্বা দেবগুপ্তরা এগিয়ে আসেন। কুশমণ্ডির আরও অনেকে তাঁর এই মহৎ উদ্দেশ্যে শামিল হয়েছেন। ২০১৮ সালে ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দিতে দিতে ফুটবল মাঠে বাপি দের অকালপ্রয়াণ তাঁর উদ্যমে খানিকটা ভাটা আনলেও শিবশংকরবাবু হাল ছেড়ে দেননি। তাঁর স্বপ্ন কুশমণ্ডি থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করা। যারা আগামীতে কলকাতা কিংবা শিলিগুড়ির বড় দলগুলিতে ফুটবল পায়ে ছুটবে।

- Advertisement -

শিবশংকরবাবু বলেন, এই ইচ্ছে বহুদিনের। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে এই লক্ষ্য পূরণে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্পের খুদে ফুটবলারদের জেদ আমাকে আশার আলো দেখাচ্ছে। সরকারি কোনও সাহায্য ছাড়া একা সমস্ত খরচ বহন করতে অসুবিধে হচ্ছে। তাই খানিকটা সরকারি সাহায্য পেলে ভালো হত। ক্যাম্পের বহু ফুটবলার দুবেলা বাড়িতে খাবার পেলেও ভালো খাবারের বড্ড অভাব। কুশমণ্ডি তথা উত্তরবঙ্গের অন্যতম ফুটবলার সুভাষ দাস আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, এমন উদ্যোগে প্রশাসনের আগ বাড়িয়ে আসা উচিত। কিন্তু তা আর হয়নি। শিবশংকরবাবুর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কুশমণ্ডি উচ্চবিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপককুমার ঘোষ সহ জেলার বহু ফুটবলপ্রেমী।

ইতিমধ্যেই কলকাতা, শিলিগুড়ি সহ বাংলার বেশ কিছু জায়গায় কোচিং ক্যাম্পের ফুটবলারদের নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। সুমিত মুর্মু, পালুশ মুর্মু, মোহিত মণ্ডল, সঞ্জয় মজুমদার, মণিজিৎ রায়, অনুপ সরকারদের মধ্যে দিয়ে একদিন স্বপ্ন পূরণ হবেই তাঁর। সেই লক্ষ্যেই শিবশংকর পাল সহ তাঁর সহযোগী কোচ সুমিত বর্মনরা রোজ সকালে ডুব দিচ্ছেন প্রশিক্ষণে।