স্নাতকে ফার্স্ট ক্লাস রেজাল্ট করেও উচ্চশিক্ষা নিয়ে সংশয় শিপ্রার

2486

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটার কালীপুরে চা বিক্রি করে মেয়েকে কলেজ পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়েছেন সুনীল বালো। অনেক কষ্টে স্নাতকে বাংলা অনার্স নিয়ে ফার্স্ট ক্লাস রেজাল্ট হয়েছে শিপ্রার। তিনি এখন এমএ পড়তে চান। বাবা সুনীল বালোরও স্পপ্ন মেয়েকে আরও অনেক দূর পড়ানো৷ কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন কতটা পূরণ হবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে গোটা পরিবার।

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের কালীপুর গ্রামের শিশাগোড় বাস স্টপেজের পাশেই চায়ের দোকান সুনীল বালোর। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে কয়েকবছর আগে। মেজো মেয়ে শিপ্রা জলপাইগুড়ি পিডি উইমেন্স কলেজের ছাত্রী। তিনি এবার বাংলা অনার্স নিয়ে ফার্স্ট ক্লাস রেজাল্ট করেছেন। ছোট মেয়ে নার্সারি স্কুলে পড়ে। শিপ্রা জলপাইগুড়িতে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের রেজাল্টও তাঁর ভালোই ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময় থেকে শিপ্রা বাড়িতেই রয়েছেন। বাড়িতে থেকেই পুজোর আগে তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা তিনি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করে। শিপ্রার সব মিলে প্রাপ্ত নম্বর ৬০ শতাংশ। রেজাল্ট পেতেই শিপ্রার বাড়িতে খুশির পরিবেশের পাশাপাশি রয়েছে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ।

- Advertisement -

এই বিষয়ে শিপ্রার বাবা সুনীল বালো বলেন, ‘আমি নিজে বেশি পড়তে পারিনি। তাই যত কষ্টই হোক, মেয়েদের পড়াচ্ছি। কলেজ পর্যন্ত শিপ্রাকে পড়ালাম। কিন্তু এখন ওর বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ কিভাবে জোগার করব, ভেবে পাচ্ছি না। এই চায়ের দোকান চালিয়ে সেটা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে আমারও স্বপ্ন মেয়ে এমএ পড়ুক।’ শিপ্রা বলেন, ‘আমার পরিবারের পরিস্থিতি ভালো করেই জানি৷ কিন্তু পড়াশোনা ছাড়তে চাইছি না। ভালো কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নিয়ে এমএ পড়ার স্বপ্ন রয়েছে। ভবিষ্যতে অধ্যাপিকা হতে চাই। কিন্তু এই আর্থিক সংকটে আমার ইচ্ছে কতটুকু পূরণ হবে তা বুঝতে পারছি না।’