সংক্রমণের ভয়ে বন্ধ করা হল শিশুবাড়ি হাট 

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: করোনা সংক্রমণের ভয়ে বন্ধ করা হল শিশুবাড়ি হাট। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী সমিতি এবং নাগরিক মঞ্চ বৈঠক করে আলিপুরদুয়ার জেলার অন্যতম বড় এই সাপ্তাহিক হাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফলে, বৃহস্পতিবার হাট বসেনি শিশুবাড়িতে। শিশুবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানানো হয়েছে, লকডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশুবাড়িতে সাপ্তাহিক হাট বসবে না। তবে, বৃহস্পতিবার ও সোমবার ছাড়া বাকি পাঁচদিন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হাট শেডে বসে আনাজপত্র বিক্রি করতে পারবেন।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলার অন্যতম বড় হাট শিশুবাড়িতে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাট বসে। স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা স্যোশ্যাল ডিসট্যান্স বজায় রাখছিলেন না। ফলে, ওই হাটের ভিড় থেকে যে কোনো সময় করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর মত বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, এলাকার অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন।

শিশুবাড়ি নাগরিক মঞ্চের সহসম্পাদক নূর আলম আহমেদ বলেন, “হাট বন্ধ করার বিষয়টি জেলা পরিষদ, মাদারিহাট থানা ও মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়ে নাগরিক মঞ্চ, ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে একটি সর্বদলীয় বৈঠকে বসেছিল। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক, লকডাউন না ওঠা পর্যন্ত শিশুবাড়িতে সাপ্তাহিক হাট বসবে না। বাকি পাঁচদিন কেবলমাত্র রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা আনাজপত্র বিক্রি করতে পারবেন।”

শিশুবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক জয় আচার্য্য বলেন, “বৃহস্পতিবার ও সোমবার শুধুমাত্র হাটের অস্থায়ী দোকানপাট নয়, স্থায়ী দোকানপাটগুলিও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনসমাগম এড়াতে এছাড়া আর কোনও উপায় নেই।” রাঙ্গালিবাজনা গ্রামপঞ্চায়েতের শিশুবাড়ি এলাকার সদস্য অসীম ঘোষ বলেন, “গত বৃহস্পতিবার হাটে হাজার হাজার মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। স্যোশ্যাল ডিসট্যান্স বলতে কিছু ছিল না। তাই সবাই মিলে হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।”

প্রসঙ্গত, মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের শিশুবাড়িতে হাটবারে হাজার হাজার ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড় হয়‌। ধূপগুড়ি, ফালাকাটা, ময়নাগুড়ি, বানারহাট সহ দূরবর্তী বহু জায়গার ব্যবসায়ীরা আসেন হাটে। হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা দু’দিন আগেই প্রচার করা হলেও অনেকেই সেই সিদ্ধান্তের কথা না জেনে বৃহস্পতিবারও হাটে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের এদিন ফিরে যেতে হয়।