জিআই স্ট্যাটাস পাচ্ছে কোচবিহারের শীতলপাটি

160

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : কোচবিহারের শীতলপাটির সুনাম গোটা রাজ্যেই রয়েছে। সেইসঙ্গে দেশের বাইরে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রেও এর যথেষ্ট খ্যাতি ও সুনাম রয়েছে। এক দশক আগে কোচবিহারের ধলুয়াবাড়ির শীতলপাটি শিল্পী টগররানি দে’র তৈরি শীতলপাটি গোটা ভারতে হস্তশিল্পের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। সেবার রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছিলেন টগররানি। কোচবিহারের শীতলপাটির এই গরিমাতে যাতে অন্য কেউ ভাগ বসাতে না পারে, তার পথ এবার প্রশস্ত হতে চলেছে। কোচবিহারের শীতলপাটিকে জিআই স্ট্যাটাস দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কী হবে এই স্বীকৃতি পেলে? কোচবিহারের শীতলপাটি সারা বিশ্বে পরিচিতি পাবে। কোচবিহারের শীতলপাটির খ্যাতিতে আর কোনও জেলা বা রাজ্য ভাগ বসাতে পারবে না।

- Advertisement -

এখানকার শীতলপাটি যাতে জিআই স্ট্যাটাস পায়, সেজন্য এমএসএমই ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে জেলা প্রশাসন যোগাযোগ শুরু করেছে। পদ্ধতি মেনে আবেদন করার প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছে। ইতিমধ্যেই এজন্য ফর্ম ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে। কোচবিহারের রাজ আমলেও শীতলপাটির ব্যবহার ছিল। পুরোনো সেই শীতলপাটির নমুনা সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। জেলা শাসক পবন কাদিয়ান বলেন, কোচবিহারের শীতলপাটিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে যা যা প্রযোজনীয়, সেসব আমরা করছি।

শীতলপাটির আঁতুড় হচ্ছে কোচবিহার-১ ব্লকের ধলুয়াবাড়ি। এছাড়াও জেলার তুফানগঞ্জ, দেওচড়াই ও নিশিগঞ্জেও শীতলপাটি তৈরি হয়। জেলায় কয়েক হাজার মানুষ এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। ধলুয়াবাড়িতে গেলেই দেখা যাবে, বাড়ির সামনে রোদে পাটি কিংবা বেতের অংশ শুকোতে দেওয়া রয়েছে।

কীভাবে তৈরি হয় এই পাটি? নিজের বাড়িতে বসে শীতলপাটি বুনতে বুনতেই বৃদ্ধা মালা দত্ত বলেন, প্রথমে খেত থেকে বেছে বেছে কচি বেত কেটে নিয়ে আসতে হয়। দা দিয়ে বেতের একেবারে উপরের পাতলা সবুজ অংশ তুলতে হয়। একে ষোলোই বলে। এরপর সেই ষোলোইকে ভাতের মাড়ে সেদ্ধ করতে হয়। এতে বেতের রংটা সবুজ থেকে সাদা হয়ে যায়। এরপর তা ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকোতে হয়। শুকোনোর পরে অল্প জল দিয়ে ষোলোইকে ভেজানো হয়। যাতে তা নরম হয়। এরপর সেই ষোলোই দিয়ে শীতলপাটি বোনা হয়। একটা পাটি বুনতে একেকজনের দেড় থেকে দুদিন লেগে যায়। স্থানীয় মহিলারা শুধু বোনার কাজ করেন। তবে খেত থেকে বেত কেটে আনা সহ বাকি সব কাজ বাড়ির পুরুষ সদস্যরাই করেন। অনেকেই কেবল এই পাটি বুনেই সংসার চালান।

পাটিশিল্পী সুব্রত দত্ত জানিয়েছেন, একেকটি শীতলপাটি তৈরি করতে খরচ হয় ৭০০-৮০০ টাকা। স্থানীয় হাটে সেগুলি বিক্রি হয় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকায়। একবার জিআই স্ট্যাটাস পেয়ে গেলে বাইরের বাজারে শীতলপাটি বিক্রির দরজা খুলে যেতে পারে, আশায় রয়েছে ধলুয়াবাড়ি।