শারীরিক বাধা জয়, পা দিয়েই ফোঁটা দিলেন শোভা

389

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: এভাবেও ফিরে আসা যায়, সেটাই প্রমাণ করলেন রায়গঞ্জের রাঙাপুকুর গ্রামের বিশেষভাবে সক্ষম যুবতী শোভা মজুমদার। জন্ম থেকেই শোভার দুটি হাত অসম্পূর্ণ। জীবন যুদ্ধে জিতে আসা যুবতীটির পায়ের ছন্দ আজ যেন লাগামছাড়া। সোমবার সকালে শোভার বাড়িতে দেখা গেল ভাইফোঁটা উপলক্ষ্যে চরম ব্যস্ততা। স্নান করে পা দিয়ে চন্দন বেটে ফুলের মালা গেঁথে ভাইফোঁটা দিলেন তিনি।

এ যেন এক অন্য অনুভূতি। হয়তো এই অনুভূতির জন্যই এত লড়াই-সংগ্রাম। ভাইফোঁটা দেওয়ার পর শোভা বলেন, ‘করোনার জেরে সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে, স্যানিটাইজ করে ভাইদের ফোঁটা দিলাম।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক লড়াই করেছি। অনেক কষ্ট পেয়েছি কিন্তু কিছু একটা করতে হবে। এই ভাবনা সব সময় তাড়িয়ে বেড়াত। ইচ্ছে থাকলেও আর্থিক অনটনের জন্য ভালোভাবে ভাইফোঁটা দিতে পারিনি। আজ আমার জীবনের যেটুকু স্বাচ্ছন্দ এসেছে তাতে ভগবানের অশেষ কৃপা। আমার দুটি হাতই অকেজো। কিন্তু ভাইফোঁটা দেওয়ার জন্য ভগবান হয়তো আমার বাঁ পায়ের কড়ে আঙুলটা দিয়েছিলেন। আজ নিজের মতো করে ভাইফোঁটা দিতে পেরে সত্যিই আমি খুশি।’

- Advertisement -

জন্ম থেকে দুটি হাত অসম্পূর্ণ শোভার। তার ওপর সংসারে আর্থিক সংকট। কিন্তু অন্যান্যদের মতো একেই জীবনের ভবিতব্য হিসেবে মেনে নেননি তিনি। দাঁতে দাঁত চেপে সমস্ত বাধাকে অগ্রাহ্য করে এগিয়ে গিয়েছিলেন কাঙ্খিত লক্ষ্যে। চলার পথে হোঁচট খেতে হয়েছে বহুবার। কিন্তু হার না মানার অদম্য জেদকে সঙ্গী করে শোভা এগিয়ে গিয়েছেন সামনের দিকে। দুটি পায়ের সাহায্যে পড়াশোনা করেছেন। শিখেছেন কম্পিউটারও। এমনকি হাতের কাজও শিখেছেন ঠিক একইভাবে। শোভার জীবনের অন্ধকার থেকে জন্ম নিয়েছে আলোর সকাল। বছর দশেক আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পদে যোগ দিয়েছেন তিনি। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় আজ ভীষণ তৃপ্ত লড়াকু ওই মেয়েটি। এই আত্মতৃপ্তিকে সঙ্গী করেই এদিন পরম মমতায় ভাইয়ের কপালে পা দিয়ে মঙ্গল তিলক এঁকে দিলেন তিনি। করে দেখালেন এক অসম্ভবকে সম্ভব। দীর্ঘদিন বাদে শাঁখ উলুধ্বনিতে ভরে উঠেছিল নতুন গড়ে ওঠা কংক্রিটের বাড়ি। ভাইয়ের হাতে উপহার তুলে দিতে পেরে আবেগে বাধা মানেনি শোভার চোখের জলে। দিদির হাতে ফোঁটা নিয়ে আজ বাঁধনছাড়া উচ্ছ্বাসে শামিল শোভার ভাইও। কারণ অনেকদিন বাদে তাঁদের বাড়িতে ভাইফোঁটা উপলক্ষ্যে শঙ্খ আর উলুধ্বনি শোনা গিয়েছে। কেটে গিয়েছে হতাশার দিন। এই শাপমুক্তির প্রধান কান্ডারি যে তাঁরই দিদি শোভা। সে কথা তাঁর ভাই ঠিকই জানেন।