চায়ের দোকানের সামনে এলোপাথাড়ি গুলি, মৃত ১

144
ছবি : সংগৃহীত

মুর্শিদাবাদ: চায়ের দোকানের সামনে এলোপাথাড়ি গুলিতে মৃত্যু হল একজনের। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটে মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার অন্তর্গত রায়পুরের ডুমুরতলা গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম আমরুল মণ্ডল (৫৫)। ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল ডুমুরতলা গ্রামের বাসিন্দা আমরুল মণ্ডল ও তার ভাই নবি মণ্ডলের সঙ্গে ছাগল কেনাবেচা নিয়ে এক ব্যক্তির বচসা হয়। পরে আমরুল মণ্ডল, নবি মণ্ডল এবং তাঁদের খুড়তুতো ভাই জিয়াবুল মণ্ডল ডোমকাল থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টির মীমাংসা হয়। আমরুলের আত্মীয় নুর ইসলাম-এর বক্তব্য, আমরুল ও নবি কংগ্রেস সমর্থক এবং জিয়াবুল তৃণমূল সমর্থক। কংগ্রেস সমর্থকদের তরফে গতকাল থানায় যাওয়ার জন্য এদিন রায়পুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা মাসুরা বেওয়ার ছেলে সারোয়ার হোসেন জিয়াবুলকে হুমকি দিয়ে মারধরের চেষ্টা করে। জিয়াবুল সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর জিয়াবুল তাঁর ভাই মিজানুর রহমান এবং আমরুল ও নবিকে সঙ্গে নিয়ে গোটা বিষয়টির ফয়সালা করতে সারোয়ার হোসেনের বাড়ির দিকে যান। অভিযোগ, রাস্তাতেই একটি চায়ের দোকানের সামনে সারোয়ার হোসেন ও পিয়ারুল মণ্ডল তাদের দলবল নিয়ে জিয়াবুলদের ওপর হামলা করে। প্রথমে তারা জিয়াবুলদের লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ে। এরপর সারোয়ার এবং পিয়ারুল দু’জনে মিলে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। সেই সময় দুটি গুলি গিয়ে লাগে আমরুলের বুকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

- Advertisement -

যদিও এই ঘটনাকে কোনওরকম রাজনৈতিক গোষ্ঠী কোন্দল বলে মানতে নারাজ আমরুলের আত্মীয় নুর ইসলাম। তিনি জানান, আমরুলের ওপর আগে থেকেই সারোয়ার এবং পিয়ারুলের কোনও রাগ ছিল। তাই পূর্ব পরিকল্পনামাফিক তাকে গুলি করে খুন করা হয়। ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম জানান, এই খুনের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। মৃতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানান, খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ১০ জনের নাম লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।