জলপাইগুড়ি, ১৮ এপ্রিলঃ বুথের বাইরে দুষ্কৃতীদের শূন্যে গুলি ছোড়া দিয়েই শেষ হল জলপাইগুড়ি লোকসভার ভোটপর্ব। জলপাইগুড়ি লোকসভার সদর বিধানসভার খারিজা বেরুবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘুঘুডাঙার কাছে কালীবাড়ি সতীশচন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭/২৪৩ নম্বর বুথের ঘটনা। প্রিসাডিং অফিসার বিশ্বদেব রায়কে নিগ্রহ এবং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিট নাগাদ ঘুঘুডাঙার বুথে তৃণমূল আশ্রীত দুষ্কৃতীরা গাড়ি, বাইক নিয়ে এসে শূন্যে গুলি করে ভোটারদের ছত্রভঙ্গ করে। প্রিসাডিং অফিসার বিশ্বদেব রায়কেও মারধর করা হয় বলে জানান স্থানীয় বিজেপি নেতা হরি শর্মা। এমনকি পুলিশকে ফোন করতে গেলে তৃণমূল আশ্রীত দুষ্কৃতীরা তাঁর মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও জানিয়েছেন তিনি। ভোটাররা বলেন গুলির শব্দ তাঁরা পেয়েছেন। দুষ্কৃতীদের পালিয়ে যেতে দেখেন। অথচ পুলিশ বুথে থেকেও নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে। পাশেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্প থাকলেও খবর পেয়ে তাঁরাও দেরি করে আসেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে কালীবাড়ি সতীশচন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালিয়ের প্রিসাডিং অফিসার বিশ্বদেব রায় জানান, তার উপর নাকি কোনও নিগ্রহ হয়নি। তিনি গুলির শব্দ শুনে বুথের বাইরে বেড়িয়ে আসেন। যা ঘটেছে বুথের বাইরে রাস্তায় ঘটেছে। এই বিষয়ে তৃণমূল জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী জানান, গুলি চালানোর ঘটনার সাথে তৃনমূলের কোন যোগ নেই। জেলা নির্বাচন আধিকারিক শিল্পা গৌরিসারিয়া জানান, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।

অপরদিকে, এদিন রাজগঞ্জ ব্লকের বালাপাড়া বোর্ড ফ্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮/২২৯ নম্বর বুথে বিজেপির ভোটারদের বুথে আসতে বাঁধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বিজেপির নেতা হারাধন সরকার। যদিও তৃণমূল নেতা বেনু রঞ্জন সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। এই দুই ঘটনা ছাড়া জেলার ৬টি বুথেই বিরোধীদের তরফে শাসকদলের বিরুদ্ধে বুথ জ্যাম, ভোটদানে বাঁধা, ইভিএম, ভিভিপ্যাট বিকলের অভিযোগ উঠেছে। জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বেলাকোবার ফরেস্ট রেঞ্জার সঞ্জয় দত্তকে ভোটকেন্দ্রে সারভিস রিভলবার নিয়ে ভোট দেওয়ার অভিযোগে প্রিসাডিং অফিসার শোকজ করেন বলে জানান জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক  শিল্পা গৌরিসারিয়া।