দোকানপাট ভাঙচুর, অবরোধে রণক্ষেত্র গজলডোবা

395
গজলডোবায় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সড়ক অবরোধ।

গজলডোবা ও রাজগঞ্জ: একদল যুবকের হুজ্জুতি, মহিলা ব্যবসায়ী ও পুলিশ আধিকারিককে হেনস্তা, পরে একদল যুবকের এলাকায় তাণ্ডব চালানো এবং ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের রাজ্য সড়ক অবরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যায় গজলডোবা রীতিমতো রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী নামানো হয়। মূলত যে যুবকদের কেন্দ্র করে এদিনের গোলমালের সূত্রপাত তারা তৃণমূল কংগ্রেসের এসসি-এসটি-ওবিসি সেলের কৃষ্ণ দাসের অনুগামী বলে অভিযোগ। তাঁর অনুগামীরাই এদিন এলাকায় তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষ্ণবাবু এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক মানতে চাননি। মিলনপল্লি ফাঁড়ির পুলিশ অভিযুক্ত যুবকদের তাণ্ডবের বিষয়টি স্বীকার করলেও তাদের হাতে পুলিশ আধিকারিকের হেনস্তার বিষয়টি মানতে চায়নি। দুজনকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটি শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্ভুক্ত। এদিনের ঘটনার বিষয়ে কমিশনারেটে যোগাযোগ করা হলে কোনও আধিকারিক কিছু মন্তব্য করতে চাননি।

দোকানপাট ভাঙচুর, অবরোধে রণক্ষেত্র গজলডোবা| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
গজলডোবায় দোকানপাট ভাঙচুর

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা নাগাদ ঘটনার সূত্রপাত। পাঁচ-ছয়জন যুবক এলাকার একমাত্র ঘোড়ায় টানা গাড়িতে পর্যটনকেন্দ্রটি ঘুরে দেখে নির্ধারিত ভাড়া দিতে অস্বীকার করলে চালকের সঙ্গে তাদের বচসা হয়। ওই যুবকরা অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। সামযিকভাবে বচসা মিটে গেলেও এরপর ওই যুবকরা পূর্ত সড়কের ধারে একটি মিষ্টির দোকানে চা, টিফিন খেয়ে দোকানদারের সঙ্গে বচসা শুরু করে। ওই যুবকরা মহিলা ব্যবসায়ীকে ধাক্কাধাক্কি করে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মিলনপল্লি ফাঁড়ির পুলিশ গণ্ডগোল থামাতে গেলে ওই যুবকরা এসআই সুব্রত সেনকে হেনস্তা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এরপর পুলিশ ওই যুবকদের দুজনকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যায়। এরপর আধ ঘণ্টা গড়াতে না গড়াতেই বেশ কয়েজন যুবক কয়েটি গাড়িতে করে এলাকায় এসে দোকানপাট ভাঙচুর শুরু করে। ধারালো অস্ত্র নিয়ে নারদ মল্লিক, সত্য বিশ্বাস, নিরঞ্জন হালদার, পল্টু সরকার, বিপতি বিশ্বাস ও ঈশ্বরের দোকানের টেবিল-চেযার ভাঙচুর করে। দোকানগুলির শোকেস উলটে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই যুবকরা চিত্কার করে নিজেদের তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের অনুগামী বলে জানান দিচ্ছিল। বেশ কিছু সময় ধরে তাণ্ডব চালিয়ে যুবকের দল ফিরে যায়। গণ্ডগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা গজলডোবা-শিলিগুড়ি পূর্ত সড়কে টাযার জ্বালিয়ে অবরোধে শামিল হন। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে আন্দোলনকারীরা জানান।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির রাজগঞ্জ উত্তর মণ্ডলের সহ সভাপতি উত্তম রায় বলেন, দুষ্কৃতীরা নিজেদের তৃণমূলের এসসি-এসটি-ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাসের লোক বলে হুমকি দিয়ে দোকানপাট ভাঙচুর করে। ব্যবসায়ীদের মারধরের পাশাপাশি তারা পুলিশের গায়ে হাত তোলে। এলাকায় বিজেপির ভালো প্রভাব থাকায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে আতঙ্ক ছড়াতেই তৃণমূল এদিন তাণ্ডব চালায় বলে উত্তমবাবুর অভিযোগ। তিনি বলেন, গোটা ঘটনা দলের উপরমহলে জানানো হয়েছে। দলের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। কৃষ্ণবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য বর্তমানে চেন্নাইয়ে রয়েছি। গজলডোবায় একটা ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। বিস্তারিত জানি না। ওখানে বহু দোকানে মদ বিক্রি হয়। মদ্যপরা এদিন গণ্ডগোল পাকিয়েছে। তাদের কারও সঙ্গেই তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। বিজেপি চক্রান্ত করে আমার বদনামের চেষ্টা করছে। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হবে।