জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : নদী সংলগ্ন জমিতে বেআইনিভাবে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন এলাকায়। পাশাপাশি ওই জমিকে কেন্দ্র করে বালি-পাথরের ব্যবসাও করা হচ্ছে। জমিটি মূলত পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে। তবে জমি সংলগ্ন রাস্তাটি জলপাইগুড়ি শহরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা নেয়। রাস্তার পাশে বালি-পাথর পড়ে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দোকান তৈরির জন্য তাদের থেকে বিল্ডিং প্ল্যান পাস করানো হয়নি। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা সেচ দপ্তরের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন। দপ্তর সূত্রে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও জমির মালিক অসীম ঘোষ যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জলপাইগুড়ি শহরের শান্তিপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গোশালা মোড়গামী রাস্তায় করলা সেতুর পাশেই ওই জমিটি রয়েছে। জমিতে জলপাইগুড়ির শিরীষতলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী অসীম ঘোষ বালি এবং পাথরের ব্যবসা করছেন। নদীর পাড়ে বালি-পাথর এনে জমা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তা ট্রাকে করে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। গত দুর্গাপুজোর সময় থেকেই জলপাইগুড়ি শহর থেকে ডুয়ার্সগামী বাসগুলি শান্তিপাড়া-গোশালা মোড় হয়ে যাতায়াত করছে। যার ফলে গত কয়েকমাসে এই রাস্তার গুরুত্বও অনেকটা বেড়েছে। ফলে রাস্তার পাশে বালি-পাথর পড়ে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়াই দোকান তৈরির অভিযোগও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বেণুমাধব সরকার বলেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে করলা নদীর পারে বালি-পাথরের ব্যবসা করা হচ্ছে। নদীর পাড়ে দোকান নির্মাণের কোনো অনুমতি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ দেয়নি। বিল্ডিং প্ল্যান পাস না করিয়ে কোনোভাবেই পাকাপোক্ত দোকানঘর নির্মাণ করা যায় না। সমগ্র বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েতে আলোচনা করে বিধি অনুসারে পদক্ষেপ করা হবে। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেন, করলা নদীর পাড়ে বালি-পাথরের ব্যবসা ও দোকান নির্মাণের বিষয়ে ভূমি দপ্তর এবং সেচ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ করা হবে।

- Advertisement -

যদিও ব্যবসাযী অসীম ঘোষ জানিয়েছেন, করলা নদীর পাড়ের ওই সাত কাঠা জমি তিনি এবং তাঁর স্ত্রী রূপালি ঘোষ ১৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কিনেছেন। জমির মিউটেশনও তাঁরা করিয়েছেন। তবে পাকাঘর নির্মাণের বিষয়ে কোনো অনুমতি রয়েছে কি না সে ব্যাপারে অসীমবাবু কোনো মন্তব্য করেননি। তাঁর দাবি, তিনি বৈধভাবেই ব্যবসা করছেন। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ (পূর্ত) সন্দীপ মাহাতো বলেন, জায়গাটি পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে হলেও বেআইনি দোকান এবং বালি-পাথরের ব্যবসার জেরে শহরের বাসিন্দাদেরও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। ওই রাস্তায় প্রতিদিন যানজট হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। জলপাইগুড়ি সেচ দপ্তরের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু ধর জানিয়েছেন, করলা নদীর পাড়ে বালি-পাথরের ব্যবসা ও পাকাঘর নির্মাণের বিষয়ে তাঁদের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। তাঁরা বিষয়টি ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরকে জানিয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে উত্তর এলে সেচ দপ্তরের তরফে পদক্ষেপ করা হবে। অন্যদিকে ভূমি দপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করা হবে।