সুশীলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ ব্যবসায়ীর

নয়াদিল্লি : সুশীল কুমারের সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে।

সাগর ধনখড় হত্যা মামলায় নাম জড়ানোর পরই অপরাধ জগতের সঙ্গে এই তারকা কুস্তিগিরের যোগাযোগ সামনে চলে এসেছে। ইতিমধ্যেই দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন গ্যাংস্টারের সঙ্গে তাঁর ‘সুসম্পর্ক’ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এবার সুশীল ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে প্রাপ্য টাকা চাওয়ায় মারধরের অভিযোগ তুললেন সতীশ গয়াল নামে এক মুদি ব্যবসায়ী। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

- Advertisement -

মডেল টাউনের বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ী জানান, ১৮ বছর ধরে তিনি ছত্রশাল স্টেডিয়ামে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করেন। সুশীলের শ্বশুর সৎপাল সিং কোচ থাকার সময় থেকে তিনি এই কাজ করছেন। গতবছর লকডাউনের সময় বীরেন্দ্র নামে একজন কোচ তাঁর থেকে ৪ লাখ টাকার সামগ্রী নিয়েছিলেন। এরপর তিনি বদলি হয়ে যান। তাঁর পরিবর্তে আসা নতুন কোচের কাছে সতীশ প্রাপ্য টাকা চাওয়ার পরই সুশীলদের বিরোধিতার মুখে পড়েন তিনি। তাঁর কথায়, একদিন অশোক নামে এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামে ডেকে আমার থেকে যাবতীয় বিলের হিসেব নেন। এর পরদিন ধর্মা নামে একজন ফোন করে সুশীলের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। আমি স্টেডিয়ামে গিয়ে সুশীলকে জানাই, এই টাকা না পেলে মরে যাব। যা শুনে সুশীল আমাকে বলে, মরে গেলে মরে যাও। এরপরই সুশীলের কথায় তাঁর সঙ্গীরা আমাকে মারধর শুরু করে।

সতীশের দাবি, সেসময় কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। এরপর ভয়ে দীর্ঘদিন বাড়ি থেকে বের হননি। এমনকি লিখিত অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর সুশীলের নাম সহ মডেল টাউন থানায় এফআইআর করি। কিন্তু সেসময় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন পুলিশ আমাকে ফোন করে বলছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুশীলের সঙ্গী অজয় লকডাউনে আমার দোকান থেকে ২৫ হাজার টাকার সামগ্রী নিয়েছে। সেই টাকাও বকেয়া। সতীশ বলেন, স্টেডিয়ামে অনুশীলন করা ছাত্রদের মুখে শুনেছি কোচেরা ওদের থেকে খাদ্যসামগ্রীর দাম বাবদ অর্থ নিয়েছে। স্টেডিয়ামে অনেক বড় ও দামি গাড়ি আসত। আমি ভাবতাম সব কষ্টের উপার্জনে কেনা। এখন শুনছি ওরা অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে সুশীলের আইনজীবী বা পুলিশ এখনও মুখ খোলেনি।