সৌরভ রায়  ফাঁসিদেওয়া : আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের শিলিগুড়ি মহকুমা এলাকার ঘোষপুকুর মোড়ে জাতীয় সড়কের জায়গা দখল করে অবৈধ দোকান গজিয়ে উঠছে। এমনকি সেখানে নির্মীয়মাণ উড়ালপুলের নীচে শুক্রবার সাপ্তাহিক হাটও বসছে। ফলে জাতীয় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ছে। কয়েকবছর আগে ঘোষপুকুর থেকে সলসলাবাড়ি পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর তৈরির কাজ শুরু হলে সরকারি জায়গায় গজিয়ে ওঠা দোকান তুলতে প্রশাসনের কালঘাম ছুটেছিল। কিন্তু করিডরের কাজ শেষ হওয়ার আগে ফের ঘোষপুকুর উড়ালপুলের নীচে এবং ঘোষপুকুর মোড় সংলগ্ন সরকারি জায়গায় দখল করে দোকান গজিয়ে উঠেছে। অভিযোগ, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী সমিতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদতেই সরকারি জমি দখল করে দোকান নিয়ে বসার সাহস পাচ্ছেন কিছু মানুষ। যদিও রাস্তা দখলের বিষয়টিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। আগামীতে বড়ো কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে প্রশাসনের তরফে রাস্তা দখলমুক্ত করা প্রয়োজন বলে অভিমত স্থানীয় বাসিন্দাদের।

যাতায়াতের সুবিধার জন্য কয়েকবছর আগে ঘোষপুকুর থেকে সলসলাবাড়ি পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের কাজ শুরু হয়েছিল।  এখনও সেই কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সে সময় কাজ শুরুর আগে রাস্তার পাশে দখল হয়ে যাওয়া জমি দখলমুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু  রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার আগে ফের কিছু মানুষ খুঁটি পুঁতে টিনের ছাউনি দিয়ে আবার কোথাও টেবিল পেতে দোকান নিয়ে বসেছেন।

স্থানীয় কিছু বাসিন্দা নিজেদের নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, ব্যবসায়ী সমিতি এবং কিছু প্রভাবশালী মানুষ রাস্তা দখলে মদত জোগাচ্ছেন। জাতীয় সড়কের পাশে এভাবে দোকান নিয়ে বসায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে সে সময় কারা দায় নেবেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। ঘোষপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নারায়ণ সিংহরায় এ ব্যাপারে মদতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় কিছু বেকার যুবক ঘোষপুকুর মোড়ে দোকান নিয়ে বসেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির মদতে ওই ব্যক্তিরা দোকান দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হচ্ছে। রাস্তাটি পূর্ত দপ্তরের আওতায় রয়েছে। তাই এই ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই। ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের কাজ শেষ হলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা দখল হওয়া রাস্তা খালি করে দেবে বলে আশা রাখছি। ঘোষপুকুর ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক আবদুল মুস্তাফা বলেন, আমাদের সমিতি কাউকেই রাস্তার পাশে দোকান নিয়ে বসতে মদত দেয়নি। কার মদতে রাস্তা দখল করে দোকান এবং হাট বসছে সেটা আমাদের জানা নেই। রাস্তা দখলমুক্ত করতে আমরা উড়ালপুল নির্মাণকারী সংস্থাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।

ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার প্রোজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, ঘোষপুকুর মোড় এবং রাস্তার পাশের জায়গা কোনোভাবেই দখল হতে দেওয়া যাবে না। খুব তাড়াতাড়ি নোটিশ দিয়ে অবৈধ দোকানগুলি তুলে দেওয়া হবে। উড়ালপুলের নীচেও কোনো দোকান তৈরি করতে দেওয়া হবে না। উভয়ক্ষেত্রেই হাইকোর্টের নোটিশ রয়েছে। সেই নির্দেশ না মানলে, আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।