উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে রোগীর চাপ,  সংকট বাড়ছে

183

শিলিগুড়ি : একদিকে রোগীদের ভিড় বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসকের অভাব। দুদিকের সাঁড়াশি চাপের মুখে নাজেহাল অবস্থা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। প্রতিদিন যেভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে করোনা সংক্রামিত বাড়ছে তা যথেষ্টই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেডিকেল সূত্রে খবর, একশ্রেণির চিকিৎসক কলকাতায় গিয়ে বসে রয়েছেন। বারবার বলেও তাঁরা উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে কাজে যোগ দিচ্ছেন না। বলছেন, কলকাতা থেকেই অনলাইনে ছাত্রদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসা পরিষেবা? সেটা তো কলকাতা থেকে দেওয়া যায় না। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো বিষয়টি স্বাস্থ্য ভবনকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে কিছু ব্যবস্থা নিলে নেবে, না হলে কিছুই করার নেই।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এখন শিলিগুড়ির তৃতীয় কোভিড হাসপাতাল বললে ভুল হবে না। কারণ, সেখানকার তিনটি আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং রেসপিরেটরি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (রিকু) মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন করে রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের বেশিরভাগই করোনা পজিটিভ। কেউ কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাও যাচ্ছেন। পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগ যেমন মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিক, গাইনি, পেডিয়াট্রিক সহ অন্য বিভাগেও প্রচুর রোগী ভর্তি হচ্ছেন। জরুরি এবং পূর্বনির্ধারিত অনেক অপারেশনও করতে হচ্ছে। ফলে রোগী এবং চিকিত্সার জন্য চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে সমস্যায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ। যে চিকিৎসকরা এখানে রয়েছেন তাঁদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি ডিউটি করতে হচ্ছে। অপারেশনের কাজ প্রায় পুরোটাই জুনিয়ার, পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট ট্রেনি (পিজিটি) এবং রেসিডেন্সিয়াল মেডিকেল অফিসাররা (আরএমও) করছেন। অর্থাৎ একজন সিনিয়ার ডাক্তারের উপর মানুষ অপারেশনের ক্ষেত্রে যতটা ভরসা করতে পারেন, এক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে সার্জারি, গাইনি, ইএনটি, অ্যানাটমি বিভাগে চিকিৎসকদের গরহাজিরা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যেও তিনটি আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং রিকু বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন সিনিয়ার, জুনিয়ার, ইন্টার্ন মিলিয়ে সমস্ত চিকিৎসকের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, এই মেডিকেলে কর্মরত যে চিকিৎসকরা দিনের পর দিন কলকাতায় বসে রয়েছেন তাঁরা এখানে থাকলে সবাই মিলে আরও ভালোভাবে রোগী পরিষেবা দেওয়া যেত।

- Advertisement -

শুধু আইসোলেশন বা রিকু ওয়ার্ডের দায়িত্বই নয়, অপারেশনও হচ্ছে প্রচুর। মেডিকেল সূত্রের খবর, ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলতি মাসে জরুরি এবং পূর্বনির্ধারিত অপারেশন মিলিয়ে প্রায় ৬৫০টি  অপারেশন হয়েছে। এর মধ্যে প্রসূতি বিভাগেই অপারেশন হয়েছে ৩২১টি। এছাড়া জেনারেল সার্জারি ১৩৪টি, ইএনটি ৯৬টি, অর্থোপেডিক বিভাগে ৬১টি, চক্ষু বিভাগে ২২টি অপারেশন হয়েছে।এরপর  এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ২০-২২টি  সন্তান প্রসব করাতে হয়। যাকে ডাক্তারি পরিভাষায় নর্মাল ডেলিভারি বলা হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ভাবাচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতাল সুপার ডাঃ কৌশিক সমাজদার বলেন, সবাই সবকিছু জানেন। নতুন করে আর কী বলব। যাঁরা আছেন তাঁদের নিয়ে আমরা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি। মেডিকেলের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, এত চিকিৎসক কলকাতায় গিয়ে বসে রয়েছেন, এটা সত্যিই ভাবনার বিষয়। করোনা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর কলকাতা থেকে বেশ কিছু চিকিৎসককে বাসে করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাস্থ্য ভবনকে আবার জানানো হবে। আশা করছি কিছু একটা ব্যবস্থা হবে।