শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে টিকিট পেতেই হিমসিম রোগীরা

374

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ প্রতিদিন চিকিৎসা করাতে আসেন শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে। বেলা যত বাড়ে তত রোগীর সংখ্যাও বাড়ে। চাপ বাড়ে বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারগুলিতে। কিন্তু এত মানুষের জন্য হাসপাতালে টিকিট কাউন্টার মাত্র তিনটি। তার মধ্যে দুটি রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য, বাকি একটি কাউন্টার বয়স্কদের। কিন্তু বেশিরভাগ দিনই দুটি কাউন্টার দিয়ে কাজ হয়। চাপ বাড়লে বয়স্কদের জন্য থাকা কাউন্টার খুলে কাজ চালানো হয়। কিন্তু সোমবার তিনটি কাউন্টার থেকে টিকিট দেওয়া হলেও অধিকাংশ রোগীকে চিকিত্সা না করিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। ফলে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অবিলম্বে আরও টিকিট কাউন্টারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। যদিও জায়গার অভাব তাই কোনোভাবেই নতুন করে টিকিট কাউন্টার খোলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার প্রচুর মানুষ আসেন জেলা হাসপাতালে। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে দুপুর ২টা পর‌্যন্ত চলে বহির্বিভাগ পরিসেবা। কিছুদিন আগে পর্যন্ত টিকিট কাউন্টার খোলা থাকলে বহির্বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু এবার চিকিৎসক থাকলেও এবং বহির্বিভাগ খোলা থাকলেও টিকিট কাউন্টারে ভিড়ের চাপে চিকিৎসাই করাতে পারলেন না রোগীরা। সোমবার সকাল থেকে জেলা হাসপাতালে ছিল ব্যাপক ভিড়। টিকিট কাউন্টারে ছিল দীর্ঘ লাইন। সকাল এগারোটার পর থেকে ভিড় বাড়তে থাকে হাসপাতালে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে দুটি টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট দিয়ে হিমসিম খেতে হয় কর্মীদের। এরপরই খোলা হয় বয়স্কদের জন্য থাকা টিকিট কাউন্টার। কিন্তু সেই কাউন্টার খোলার পরও পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যায় পড়ে কর্তপক্ষ। বেলা ১টায় কয়েকশো লোকের ভিড় ছিল টিকিউ কাউন্টারের সামনে। কিন্তু ওই সময়ই বহির্বিভাগ ছিল পুরোপুরি ফাঁকা। দুপুর ২টা বাজতেই বন্ধ হয়ে য়ায় বহির্বিভাগ। তখনও কয়েকশো রোগীর কাছে ছিল টিকিট। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত টিকিট কাউন্টার না থাকায় এবং সময়মতো টিকিট না পাওয়ায় অনেককেই চিকিৎসা না করিয়ে ফিরতে হয়েছে এদিন।

- Advertisement -

জেলা হাসপাতালের সুপার অমিতাভ মণ্ডল বলেন, আমাদের পৃথক টিকিট কাউন্টার করার জায়গা নেই। তাই নতুন করে টিকিট কাউন্টার করা সম্ভব নয়। তবে দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষের কী হবে তা নিয়ে কিছু বলতে চাননি তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা এক রোগীর আত্মীয় সুব্রত সরকার বলেন, ভাইকে নিয়ে ১২টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। টিকিট হাতে পেলাম প্রায় ২টায়। এরপর গিয়ে দেখলাম বহির্বিভাগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই চিকিৎসা না করিয়ে ফিরতে হল। আবার মঙ্গলবার আসতে হবে।