শার সঙ্গে দেখা করেও গোসা শোভন-বৈশাখী

1050
ফাইল ছবি

কলকাতা : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শার সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পরেও শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য বিজেপিতে সক্রিয় হওয়া নিশ্চিত নয়। বৃহস্পতিবার রাতেই রাজারহাটের একটি হোটেলে অমিত শার সঙ্গে দেখা করেছিলেন শোভন-বৈশাখী। রাতেই ওই বৈঠক নিয়ে উচ্ছ্বসিত বৈশাখী ফেসবুক পোস্টে দুই নেতার ছবি দিয়ে লিখেছিলেন, আমি নিশ্চিত, আজকের বৈঠক বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ে সূচনা করবে। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যাতেই তাঁর উচ্ছ্বাস অনেকটাই স্তিমিত দেখা গেল। তিনি বলেন, রাজনীতির সঙ্গে যুক্তদের অবশ্যই রাজনৈতিক পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু দল তাঁকে কীভাবে কাজে লাগাবে, তার ওপরেই সেই পরিকল্পনা রূপায়ণ নির্ভর করে। বিজেপিতে আমরা সক্রিয় হব কি না, তা একমাত্র ভবিষ্যৎই বলবে। কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে শোভন-বৈশাখীর সম্পর্ক বরাবরই ভালো। কিন্তু রাজ্য সভাপতি  দিলীপ ঘোষ ও প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় সহ তাঁদের ঘনিষ্ঠ লোকদের জন্য শোভন-বৈশাখী মুরলীধর সেন লেনের অফিসের পথ মাড়াননি দীর্ঘদিন। প্রথমে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও শেষমুহূর্তে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের কার্যকরী কমিটিতে মনোনীত করা হলেও কোনও সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেননি তাঁরা।

বৈশাখী তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন, কোন কোন কেন্দ্রীয় নেতা তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে নাম নিয়েছেন বিএল সন্তোষ, শিবপ্রকাশ, কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও অরবিন্দ মেননের। নতুন সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী কীভাবে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন, তাও জানাতে ভোলেননি বৈশাখী। এই পোস্টের পর ধারণা হয়েছিল, শেষমেশ সম্পর্কের বরফ গলেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বৈশাখী বলেন, অমিতজি এবং কেন্দ্রীয় নেতবৃন্দের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগেও ভালো ছিল। কিন্তু এই রাজ্যে আমরা তো অমিতজির সঙ্গে পার্টি করব না। এই রাজ্যে যাঁদের সঙ্গে কাজ করতে হবে, তাঁরাই ঠিক করবেন, আমাদের কীভাবে কাজে লাগানো হবে।অমিত শা-র সঙ্গে বৈঠক সেরে ফিরে বৈশাখী ফেসবুক পোস্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও তিনি বা শোভন, কেউ পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে শুক্রবারের সাংগঠনিক বৈঠকে হাজির হননি। বৈশাখী বলেন, শারীরিক কারণে করোনা পরিস্থিতিতে শোভনকে নিয়ে ভিড়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। অমিতজিকে এই কথা আমরা জানিয়ে এসেছিলাম। ফেসবুকে অবশ্য বৈশাখী লিখেছেন, আমার ধারণা ছিল, অমিতজি খুব একটা হাসেন না। শোভনও নিজের মনের কথা খুব একটা খুলে বলেন না। কিন্তু দেখলাম, ব্যস্ততম রাজনীতিবিদদের সামনে বসে নিজেদের খুব স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছিল। শোভন ও অমিতজির কথাবার্তা শুনে আমি বুঝলাম, ওঁরা রাজনৈতিক জগতের কতটা গভীরে বিচরণ করেন।

- Advertisement -