না জানিয়ে ছুটি নেওয়ায় শোকজের মুখে ২০ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী

348
ফাইল ছবি

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: করোনা বিপর্যয়ের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার অভিযোগে ১৫ জন চিকিৎসক, ২ জন স্বাস্থ্য কর্মী, ৩ জন নার্সকে শোকজ করল স্বাস্থ্য দপ্তর। পাশাপাশি এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবিও উঠেছে। সম্প্রতি কলকাতা থেকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে একাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা না জানিয়েই দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দিতে যান। অনেকে আবার মাস খানেক ধরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে যাওয়া-আসা করছেন। গত মাসের ২৪ তারিখে একদল চিকিৎসক ও নার্সদের একাংশ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে যান। বাকিরা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতলে চিকিৎসার কাজে যোগ দিতে যান। তার মধ্যে এক চিকিৎসকের লালা রসের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এর পরই বাকিদের পাঠানো হয় সেখানে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর সঙ্গে আসা রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের একজন চিকিৎসক, এক নার্স এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়েছে। গতকাল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপকুমার পাল ও সহকারি অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় একটি নোটিশ জারি করেছেন। সেখানে লেখা রয়েছে দুদিনের মধ্যে কলকাতা সহ অন্যান্য জেলায় থাকা চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সদের রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে আসতে হবে। প্রত্যেককেই ইমেইল মারফত এই অর্ডার পাঠানো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ওই চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা যোগাযোগ করেননি।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘যে সকল চিকিৎসক-নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা জেলার বাইরে রয়েছেন তাদের দুদিনের মধ্যে মেডিকেল কলেজে কাজে যোগ দিতে হবে। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ এদিকে রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত, রাতে চুপিসারে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে কলকাতা যাওয়া আবার কলকাতা থেকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। এই নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলাশাসককে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, করোনা মোকাবিলায় উত্তর দিনাজপুর জেলায় চিকিৎসক নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্রেনিং দিল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ থেকে আসা মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর দীপাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাইক্রোবায়োলজির বিভাগীয় প্রধান সঞ্জয় মল্লিক। এদিন রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় অডিটোরিয়াম হলে ট্রেনিং দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান, বিভিন্ন ব্লকের বিএমওএইচ’রা। সোশ্যাল ডিসটেন্স মেনে এদিন প্রজেক্টরের মাধ্যমে ট্রেনিং দেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুই অধ্যাপক। অধ্যাপক সঞ্জয় মল্লিক জানান, উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভালো কাজ হচ্ছে। এদিন ঘণ্টাতিনেক সময়ধরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্রেনিং দেওয়া হয়।

উত্তরবঙ্গের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) সুশান্তবাবু বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় কি রকম কাজ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতেই বিভিন্ন জেলায় রিভিউ বৈঠক হচ্ছে।’ গতকাল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৯৬টি সোয়াবের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা চাইছি আরও বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হোক। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ও এখন দুই শিফট থেকে বাড়িয়ে তিন শিফটে সোয়াব পরীক্ষার কাজ চলছে। করোন পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই জেলায় জেলায় করোনা মোকাবিলা করার জন্য নানা রকমের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই সমস্ত উদ্যোগের মধ্যে একটি সমন্বয় (কো-অর্ডিনেটর) বজায় রাখার জন্য রাজ্য সরকার ওএসডি নিয়োগ করেছে। তিনি সমস্ত জেলার করোনা সংক্রান্ত কাজ খতিয়ে দেখতে, পরামর্শ দেওয়া, সমন্বয় বজায় রাখা সহ একাধিক কাজ করছেন। এদিন তারই নির্দেশে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের দুজন অধ্যাপক কে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে কর্ণজোড়ায় অডিটোরিয়ামে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্সদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন।