জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতে প্রতিভার স্বাক্ষর শ্রেয়ান, জ্যোতির 

203

বীরপাড়া: জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতে আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার নাম উজ্জ্বল করছে দুই প্রতিভাবান শিল্পী। একজন স্কুল পড়ুয়া শ্রেয়ান আচার্য উঠতি আবৃত্তিকার। অপরজন জ্যোতি মণ্ডল একজন কত্থক নৃত্যশিল্পী। দু’জনই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতেছে দু’জনই। এমনকি লকডাউনের সময়ও তারা ভার্চুয়ালি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। জ্যোতি মণ্ডল নিজে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি এলাকার উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।

জানা গিয়েছে, বীরপাড়া হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শ্রেয়ান আচার্য সাড়ে তিন বছর বয়স থেকেই আবৃত্তি চর্চা করে। কলকাতার চুমকি বাগচির কাছে প্রশিক্ষণ নেয় সে। লকডাউন চলাকালীন অনলাইনে প্রশিক্ষণ চলছে। প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু শ্রেয়ান ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানগুলিতে আবৃত্তি করে চলেছে। গত ১৪ মার্চ ওডিশার কটকে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় জাতীয় স্তরে সেরার পুরস্কার জেতে সে। ২০ মার্চ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগীতায় ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেছে সে। ঝাড়খণ্ডে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় জাতীয় স্তরে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে শ্রেয়ান। এখন চলছে কটকে আবৃত্তির অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি। তাঁর বাবা সুজিত আচার্য একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সুজিতবাবু বলেন, ‘প্রতিদিন নিয়ম করে আবৃত্তি চর্চা করে শ্রেয়ান। আপ্রাণ চেষ্টা করছি ওর স্বপ্ন পূরণের।’

- Advertisement -

বীরপাড়ার সুভাষপল্লীর বছর পঁচিশের যুবক জ্যোতি মণ্ডল গত মাসে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কত্থক নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় স্তরের সম্মাননা পেয়েছেন। গত বছর কলকাতায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের ৪৩তম প্রতিযোগিতায় কত্থক নৃত্যে স্বর্ণপদক পান তিনি। ২০১২ সাল থেকে নৃত্য চর্চা করেন তিনি। বর্তমানে প্রশিক্ষণ নেন শিলিগুড়ির সংগীতা চাকির কাছে। পাশাপাশি, নিজেও তিনি প্রশিক্ষণ দেন ৫০-৬০ জন কিশোরকে। ফালাকাটা, ধূপগুড়ি সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা যায় জ্যোতির কাছে। বীরপাড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়ব্রত ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘বীরপাড়ার উঠতি প্রজন্ম সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে। এটা সত্যিই গর্বের বিষয়।’