মেপে খেলা শুভেন্দুর, স্নাযুযুদ্ধে নেমেছেন নেত্রী

3061

শুভেন্দু অধিকারী জানেন, ১৫২০টি আসনে জিততে পারলে তিনি সরকার গঠনে অংশীদার হতে পারবেন তখন সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে তণমূল বা বিজেপি, উভয় দলকে তাঁর সাহায্য নিতে হবে যার সঙ্গেই সরকার গড়ুন, তিনি এগিয়ে খেলতে পারবেন সেটাই তাঁর লাভ লিখেছেন গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আলফ্রেড হিচককের পরামর্শ ছিল, যদি গলাব্যথা করে তাহলে তার উত্তম চিকিৎসা হল- গলাটা কেটে ফেলা। গলাটাই যদি না থাকে, তাহলে গলাব্যথা থাকে না। তবে যে কথাটা হিচকক বলেননি, তা হল- গলাব্যথার কারণগুলি যদি সমূলে বিনাশ করা সম্ভব হয়, তাহলে গলাব্যথার উপসর্গটাই আর থাকে না। ইতিহাসে বহু শাসক এই আপ্তবাক্যের নির্যাসটুকু গ্রহণ করেছিলেন বলে সাম্রাজ্যে বা পরিবারে কেউ গলাব্যথার কারণ হলে তার সমূলে বিনাশ করেছেন। রাজ্যপাটের প্রথম দিকে সম্ভবত এই পরামর্শ মন দিয়ে শুনতেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার বা দলে গলাব্যথার কারণ ঘটলে, তিনি দণ্ডাদেশ দিতে কালক্ষেপ করতেন না। দলের বাইরে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতেও কসুর করেন না মমতা। প্রথম দিন থেকে তাঁর সাধের বাংলাকে কংগ্রেস এবং কমিউনিস্ট শূন্য করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। চৌত্রিশ বছরের মৌরসিপাট্টা থেকে বামেদের টেনে নামিয়ে জনগণের মানসপটে তাঁর যে বীরাঙ্গনার ছবি আঁকা হয়েছিল, তা অবশ্যই ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সেরা সাফল্য। কিন্তু তাঁর হিসেবে একটা মস্ত ভুলও হয়ে গিয়েছিল। তিনি ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর এই ভাবমূর্তি তাঁকে বাঙালি জীবনে চিরস্থায়ী প্রতিষ্ঠা দেবে। কিন্তু ভুল ভাঙল গত লোকসভা নির্বাচনে। এই কারণে গলাব্যথার কারণের উপশম ঘটাতে তিনি আর পুরোনো চিকিৎসায় ভরসা রাখতে পারছেন না। মমতা বুঝেছেন, গলাব্যথার কারণ ঘটলেই তড়িঘড়ি চরম পদক্ষেপ করা যায় না। শুধু এই কারণে মেদিনীপুরে অধিকারীদের জমি দখল করতে তাড়াহুড়ো করছেন না। বরং এককালের বশংবদ এবং তাঁর একদা আশীর্বাদপুষ্ট শুভেন্দু অধিকারীকে বাইরের দরজা না দেখিয়ে দিয়ে তাঁর সঙ্গে স্নাযুযুদ্ধে নেমেছেন।

- Advertisement -

শুভেন্দু কিন্তু প্রথম বাগি তৃণমূল নেতা নন। এর আগে মুকুল রায় চলে গিয়েছেন, সৌমিত্র খাঁ গিয়েছেন, অর্জুন সিং গিয়েছেন, ভ্রাতৃসম শোভন চট্টোপাধ্যায় বিবাগী হয়েছেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁদের মস্ত বড় ফারাক আছে। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভাবাচ্ছে। শুভেন্দু যেভাবে খেলতে নেমেছেন, সেভাবে অন্যরা নামেননি। তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন। নিজেরা মাঠে নেমে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার সাহস দেখাননি। শুভেন্দুর নিজস্ব ইউএসপি যথেষ্ট ভালো, দলের বাইরেও বড় পরিচিতি আছে। নন্দীগ্রামে কৃষি আন্দোলনের সুবাদে তাঁর নাম সুবে বাংলার সর্বত্র ছড়িয়েছিল। পরে মমতা সরকারের মন্ত্রী হওয়ায় প্রশাসনিক মহলেও পরিচিতি বাড়ে। সেই পরিচিতি সম্বল করে তিনি বঙ্গের রাজনীতিতে নিজের ফলক বসাতে উঠেপড়ে লেগেছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁকে স্বতন্ত্র সত্তায় দেখতে পাওয়া যেতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন হঠাৎ তিনি একলা চলো রে মন্ত্রে দীক্ষিত হলেন? তৃণমূল পরিবারে যে কথাটা ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হল অধিকারী তনয়ে উষ্মার কারণ, মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেকের তৃণমূলে অন্তর্র্ভুক্তি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে তৃণমূল দলে শেষ কথা, একথা দুধের শিশুও জানে। তৃণমূলের অন্দরের খবর, অভিষেক প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে নেমে পড়তে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেন শুভেন্দু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই দলে একমেবাদ্বিতীয়ম নেত্রী হন, শুভেন্দু অধিকারী মনে করেন নিজের খাসতালুকে তিনিও একচ্ছত্র নেতা। অথচ এখন কোনও কারণে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য ছেড়ে দিল্লিতে পাড়ি জমান, তাহলে বাংলায় রাজ্যাভিষেক কার হবে, তা জানতে এখন আপামর জনতার বাকি নেই।

অভিষেকের হাতে রাজদণ্ড চলে গেলে শুভেন্দুর হাতে থাকবে শুধু পেনসিল। কিন্তু শুভেন্দু মনে করেন, পূর্ব মেদিনীপুরে যখন তিনি একাই একশো, তখন চেষ্টা করলে রাজ্য-রাজনীতিতেও তিনি ছড়ি ঘোরানোর ক্ষমতা ধরেন। অথচ মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো হওয়ার সুবাদে পরিবারতন্ত্রে অভিষেকের হাতে সেই ক্ষমতা চলে যেতে পারে। শুভেন্দু অনুগামীদের প্রশ্ন, তাঁদের দাদা কি বানের জলে ভেসে এসেছেন? দাদা ইতিমধ্যে অনুগামীদের এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলে দিয়েছেন, রাজনীতিতে তিনি প্যারাশুটে নামেননি, লিফটেও ওঠেননি। সিঁড়ি দিয়ে ধাপে ধাপে উঠেছেন। অর্থাৎ তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়েছেন, নেতা হিসাবে তিনি কম কেউকেটা নন। কার উদ্দেশে একথা বলা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যাঁরা বোঝার তাঁরা বুঝেছেন এবং জবাব দিয়েছেন। কলকাতার পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন অন্তর্যামী। এতে আরও চটে শুভেন্দুর বক্তব্য, ছোটলোকদের কথার তিনি গুরুত্ব দেন না। শুভেন্দু জানেন, কূটকচালি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে স্ট্রেট ব্যাটে খেলতে হবে। পিছিয়ে খেললে মাঠে থাকা যাবে না। কারণ, দল তাঁকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে রাজি নয়। শুভেন্দুকে বেকায়দায় ফেলতে অখিল গিরিরা পর্য ন্ত মাঠের বাইরে বল ফেলছেন। দলের সিকি-আধুলিদের কাছে শুভেন্দুকে শুনতে হচ্ছে, তিনি যে মন্ত্রী হয়েছেন, তাঁর বাবা যে সাংসদ হয়েছেন, ভাইরা যে ভালো পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, এসব তৃণমূলের কৃপা। এসব শুনে তাঁর ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। তাঁর অনুগামীদের মধ্যে এই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটতে দেখা যাচ্ছে। শুভেন্দুর পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুর গরম হয়েছে। তাঁর অনুগামীরা বুকে শুভেন্দুর ছবি দেওয়া পোস্টার সাঁটিয়ে মৌনমিছিল করেছেন।

শুভেন্দু কিন্তু ক্ষোভের বশে ভুল করতে রাজি নন। তিনি জানেন, এই খেলায় জিততে হলে তাঁকে মেপে এগোতে হবে। আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিতে তিনি রাজি নন। শুভেন্দু চাইলে বহু আগে বিজেপিতে নাম লেখাতে পারতেন। তিনি তাতে রাজি নন। বিজেপিতে যাওয়ার অর্থ পূর্বসূরিদের মতো পাঁচহাজারি মনসবদারির চাকরিতে নাম লেখানো। চোখের সামনে দলত্যাগী পূর্বসূরিদের যে উদাহরণ রয়েছে, তা দেখে তাঁর উৎসাহিত হওয়ার কারণ নেই। বিজেপিতে নাম লেখালে তাঁকে ফের নিজেকে প্রমাণের দায় কাঁধে নিতে হবে। সেইসঙ্গে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে বাজি খেলতে হবে তাঁকে। মুসলিম অনুরাগীর সংখ্যা তাঁর কিছু কম নয়। বিজেপিতে গেলে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক নিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন তিনি। জবাবদিহি করতে করতেই দিন কাবার হবে। কিন্তু অঙ্ক মিলে গেলে রাজ্য সরকার গঠনে আগামী নির্বাচনের পর তিনি নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে শুভেন্দুর বিশ্বাস। বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলের ভাগ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার শিকে না ছিঁড়লে শুভেন্দুর কপাল চওড়া হবে। তিনি দরকষাকষিতে বরাবরই পটু। হরিয়ানায় দুষ্মন্ত চৌতালা তো এই দক্ষতার জোরেই সটান উপমুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন। তবে শুভেন্দুকে মাথায় রাখতে হচ্ছে, মঞ্চে তাঁর প্রবেশ তখনই ঘটবে, যখন দুই প্রধান কুশীলব নিজেদের দক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ হবেন। তৃণমূল এবং বিজেপির ফল আগাম না বলা গেলেও এটুকু বোঝা যাচ্ছে যে, হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলবে দুই দলে। গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের বিচারে তৃণমূলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। এদিকে, যত বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে, তত দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল বাড়ছে।

তৃণমূলের এই বিক্ষুব্ধ নেতা-মন্ত্রীদের দিকে এখন শ্যেনদৃষ্টি বিজেপি নেতত্বের। যাঁরাই তৃণমূলের খিড়কি দুয়ার দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারছেন, তাঁদের জন্য সদর দরজা হাট করে খুলে লাল কার্পেট বিছিয়ে রাখছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ওপরও ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে পদ্ম শিবির। প্রশাসনিক দিক থেকে আবার কেন্দ্র চাপে রাখছে রাজ্য সরকারকে। দায়িত্ব নিয়ে আসা ইস্তক রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের প্রধান কাজ হল, রাজ্য সরকারের যাবতীয় বিচ্যুতি তুলে ধরা এবং সংবাদমাধ্যমে সরকারের তীব্র সমালোচনা করা। রাজ্য সরকার কতদিকে ব্যর্থ, তা নিয়ম করে সাংবাদিকদের কাছে বলাও তাঁর কাজ, যাতে বিজেপির পোয়াবারো হচ্ছে। বিজেপি চাইছে তৃণমূলের আসনসংখ্যা একশোর নীচে রাখতে। না হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামলানো বিজেপির পক্ষে সমস্যা হবে। শুভেন্দুও সেটা চাইছেন। পাশাপাশি তিনি হিসেব কষে বুঝতে পারছেন, বিজেপিও বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়ে উঠতে পারবে না। অন্য বিরোধী দলেরও অনুমান সেটাই। কী সেই হিসেব? পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আসনসংখ্যা ২৯৪। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য পেতে হবে ১৪৮টি আসন। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অত খারাপ ফলেও দেখা যাচ্ছে, ১৭১টি আসনে এগিয়ে আছে ঘাসফুল শিবির। অর্থাৎ ১৪৮-এর চেয়ে ২৩টি আসন বেশি আছে। বিজেপি এগিয়ে আছে ১১৬টি আসনে। বিজেপিকে বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসনগুলি ধরে রেখে অতিরিক্ত আসন না জিততে পারলে লাভ নেই। বিজেপি জানে, কাজটা বলা যত সহজ, করা তত সহজ নয়।

সেইজন্য তৃণমূলের অন্দরের ফাটলের দিকে অত নজর বিজেপির। তৃণমূলের ঘর যত ভাঙে, তত বিজেপির লাভ। শুভেন্দুর প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ন নজর রাখছে বিজেপি। শুভেন্দু বিজেপিতে না গেলেও তৃণমূলের ভোটব্যাংকে থাবা বসালে বিজেপির লাভ। ওদিকে শুভেন্দু জানেন, ১৫-২০টি আসনে জিততে পারলে তিনি সরকার গঠনে অংশীদার হতে পারবেন। তখন সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে তণমূল বা বিজেপি, উভয় দলকে তাঁর সাহায্য নিতে হবে। যার সঙ্গেই সরকার গড়ুন, তিনি এগিয়ে খেলতে পারবেন। তবে সব অঙ্ক উলটে যাবে এবং বিজেপি ও শুভেন্দুকে পস্তাতে হবে, যদি বাম-কংগ্রেস জোট ভোট বাড়াতে পারে। কেন-না, বিশেষজ্ঞ থেকে রাজনীতিবিদ- সকলেই জানেন, গত লোকসভায় বিজেপি শুধুমাত্র নিজের ক্ষমতায় চোখধাঁধানো ফল করেনি। বামেদের ভোটের সিংহভাগ ঢুকেছিল বিজেপির সিন্দুকে। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের ৩৪ শতাংশের সামান্য বেশি ভোট ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে কমে দাঁড়ায় ৭ শতাংশের কাছাকাছি। অন্যদিকে, বিজেপির ভোট ওই একই সময়ে ১০ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশের ওপরে। উত্তরবঙ্গ কোনওদিনই মমতার খাস জায়গির ছিল না, যেমন দক্ষিণবঙ্গ ছিল। তাহলে দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের এমন বেহাল দশা হল কেন? কারণ, মমতার অবিমৃশ্যকারিতা। জঙ্গলমহলে বিভিন্ন গণআন্দোলন কড়া হাতে বন্ধ করেছে রাজ্য সরকার। ফল হয়েছে বিপরীত। ভোটবাক্সে মানুষের অসন্তোষ আর বিক্ষোভ প্রতিফলিত হয়েছে। আবার শিল্পাঞ্চলে বাম শ্রমিক আন্দোলন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিক এবং অবাঙালি ভোটারদের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তাঁদের মনে হয়েছে, নতুন দিশা দেখাতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী। এর ওপরে কট্টর হিন্দুত্বের প্রলেপ তো ছিলই।

এতদসত্ত্বেও এখনই একথা বলার সময় আসেনি যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভা নির্বাচনে কোণঠাসা করে ফেলতে পারবে বিজেপি। প্রথমত, বাম-কংগ্রেস হৃত শক্তির কিছুটাও পুনরুদ্ধার করলে বিজেপির ক্ষতি হবে, তৃণমূলের লাভ হবে দ্বিবিধ। বাম-কংগ্রেস শিবিরের ভোট স্বস্থানে ফেরত এলে বিজেপির ভোট কমবে। এই জোট বেশি আসন পেলেও আর যাইহোক বিজেপিকে সমর্থন করবে না। তাহলে শুভেন্দুর কী হবে? শুভেন্দু জানেন, তিনি নিজের ক্ষমতায় অন্তত দুই মেদিনীপুর করায়ত্ত করে রাখতে পারলে তাঁকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। শুভেন্দুর অঙ্কটা তৃণমূল নেত্রীও জানেন। শুভেন্দু-কাঁটা যে অত চট করে গলা থেকে বের করা যাবে না, এটা বুঝেছেন পোড়খাওয়া নেত্রী। তাই তিনিও কর্ণেন পশ্যন্তি না করে নিজে লক্ষ্য রাখছেন। তাঁর দরকার ছিল মহুয়া মৈত্রর মতো একজন কর্পোরেট নেত্রী। মহুয়া নদিয়ায় গিয়ে রাজনীতির তথাকথিত পথে না চলে একেবারে ভিন্ন অস্ত্রে বিরোধীদের, মায় নিজের দলের সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি সমস্ত বুথ সাজিয়ে ফেলেছেন। সেখানে নিজের দলের নেতাদেরও প্রবেশ নিষেধ। তিনি কর্পোরেট জগতের নিয়ম মানেন বলে জানেন আজকের বিশ্বে টার্গেট পূর্ণ না করতে পারলে কারও চাকরি থাকে না। সেই কাজটি তিনি করে চলেছেন। দুই মেদিনীপুরে এমন একজন মহুয়া মৈত্র প্রযোজন ছিল মমতার। কিন্তু সেখানে মহুয়া মৈত্র নেই। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ময়দানে মমতার বাজি নিজের ভ্রাতুষ্পুত্র। আর সেই কালো ঘোড়াটিকে ধরাশায়ী করাই মূল উদ্দেশ্য অধিকারী পরিবারের সন্তান শুভেন্দুর। কাজেই লড়াই এখন সেয়ানে-সেয়ানে।