চার দফার ভোটেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেছে বিজেপি, দাবি শুভেন্দুর

191

রায়গঞ্জ: চার দফা ভোটেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলেছে বিজেপি। বাকি আর দুই দফা ভোটেই ২০০ আসন পার হয়ে যাবে। রবিবার উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপ প্রার্থী সৌমেন রায়ের সমর্থনে একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে একথা জানান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু জানান, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেবে বেকারদের কর্মসংস্থান ও শিল্পের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে। রাজ্যের মানুষকে আর ভিন রাজ্যে কাজ করতে যেতে হবে না। রাজ্যেই শিল্প হবে। ‌রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ঢেলে সাজানোর আশ্বাসও দেন শুভেন্দু। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে শুভেন্দুর অভিযোগ, ‘এই জেলার মানুষের জন্য তৃণমূল কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেনি। তাই এই জেলার মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবে না। গ্রামে গ্রামে রাস্তাঘাট ভাঙ্গা কিন্তু বাংলার গ্রামে রাস্তা বানানোর জন্য দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গ্রামের রাস্তা না বানিয়ে সেই টাকা কাটমানি, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নেতাদের বাড়িতে জমা করেছে।’ এদিন দেবীনগর সংলগ্ন গোয়ালপাড়া মাঠে মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর তোপ, পশ্চিমবঙ্গে যখন নির্বাচন শুরু হল, তৃণমূলের নেতারা বললেন খেলা হবে। বিগত ১০ বছর ধরে বাংলার মানুষকে নিয়ে খেলা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার কোন গরিব পরিবারে তিনি উন্নয়ন হতে দেননি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বেগম বলে উল্লেখ করে শুভেন্দুর আক্রমণ, নরেন্দ্র মোদির দিল্লির সরকার বাংলার প্রত্যেক গরিব মানুষের জন্য প্রতিবছর ৫ করে লক্ষ টাকার আয়ুষ্মান যোজনা দিতে চাইছিল। কিন্তু দিদি ওই টাকাটা মানা করেছেন। কেন? দিদি আর ভাইপো সেই টাকার মধ্যেও কাটমানি পেতে চাইছিলেন। জানান, সিঙ্গুরে মমতা বেগম হেরে গিয়েছেন।আর সেটা জানতে পেরেই তিনি একের পর এক পাগলের প্রলাপ শুরু করেছেন। এদিন রায়গঞ্জ শহরে দেবীনগর গয়ালাল মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নেমে সোজা মন্দিরে পদ্ম ফুল দিয়ে পূজা দেন। ‌ এরপর রায়গঞ্জ পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন গোয়ালপাড়া এলাকায় জনসভা করেন। সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এদিন ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে অবাধে ছাপ্পা ভোটের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জিকে। তাঁর অভিযোগ, কালিয়াগঞ্জবাসি উন্নয়নের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী তপন দেব সিংহকে বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী করেছিলেন। তিনি উপনির্বাচনে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার একটাও বাস্তবায়িত করতে পারেননি।

- Advertisement -