বায়ার্নের ওয়ার্ল্ড স্কোয়াডে বাংলার শুভ

শিলাজিৎ সরকার, কলকাতা : ছোটবেলায় জুতো কেনার সঙ্গতি ছিল না। সেই ছেলের সৌজন্যেই শুভ-সংবাদ বাংলার ফুটবলে।

বায়ার্ন মিউনিখের প্রকল্প বায়ার্ন ওয়ার্ল্ড স্কোয়াড-এ ডাক পেলেন হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা শুভ পাল। ৬৪ দেশের ৬৫৪ জন ফুটবলারের মধ্য থেকে সেরা ১৫ জনের স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন। এমন সুযোগে উচ্ছ্বসিত ১৭ বছরের এই বাঙালি স্ট্রাইকার।

- Advertisement -

তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। সালকিয়ার স্থানীয় একটি মাঠে অনুশীলন করতেন শুভ। ২০১৭ সালে ট্রায়াল দিয়ে সুযোগ পান আইলিগের দল সুদেভা এফসির অ্যাকাডেমিতে। তাদের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৩ আই লিগে দুরন্ত পারফরমেন্স, ১৩ ম্যাচে করেন ৫৮ গোল। ২০১৯-২০ মরশুমে ইয়ুথ লিগে ১৪ ম্যাচে করেন ১১ গোল। এরপরেই সিনিয়র দলে জায়গা পান শুভ। ২০২০-২১ মরশুমে আই লিগে ৮ ম্যাচে ২ গোল করেন, করিয়েছিলেন একটি গোল। তাঁর গোলেই অ্যারোজের বিরুদ্ধে তিন পয়েন্ট পায় সুদেভা। পাশাপাশি দেশের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ১১ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন শুভ।

বিশ্বজুড়ে যুব ফুটবলের উন্নতির জন্য বায়ার্ন ওয়ার্ল্ড স্কোয়াড প্রকল্প নিয়েছে মিউনিখের ক্লাবটি। এই প্রকল্পে নির্বাচিত ১৫ ফুটবলারকে ক্লাবের পরিকাঠামোর অনুশীলন করানো হবে। ক্লাবের যুব দলের সঙ্গে, ক্লাবের কোচেদের অধীনেই অনুশীলন করবেন ওই তালিকায় থাকা শুভ। বায়ার্নের ডাক পেয়ে উচ্ছ্বসিত শুভ বললেন, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় খবর। বায়ার্ন অনেক বড় দল। ওরা বুন্দেশলিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো প্রতিযোগিতায় খেলে। সেখানে অনুশীলনের সুযোগ পাওয়াটা বড় বিষয়। আমি মিউনিখে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।

তবে বায়ার্নের সেরা ১৫ জনে আসার জন্য কয়েকটি ধাপ পার করতে হয়েছে শুভকে। তাঁর কথায়, ক্লাব থেকে আমার খেলার বিভিন্ন ভিডিও বায়ার্নের কাছে পাঠানো হয়। ওরা প্রথমে সেরা ১০০ বেঁছে নিয়েছিল। তারপর ৩৫ জনকে বাঁছে। তারপর চূড়ান্ত ১৫ জনের নাম জানায়। ভিডিও পাঠানোর পর থেকে বায়ার্নের কোচেরা আমাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগাযোগ করতেন। এমনই মিটিংয়ে মধ্যে ওঁরা আমাদের সিলেক্ট করার কথা জানায়। তবে ডাক পাওয়া বাকি ১৪ জনের সঙ্গে সেভাবে পরিচয় হয়নি এখনও।

চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে মেক্সিকোয় শুভদের প্রি-সিজন ক্যাম্প শুরু হবে। প্রায় দুসপ্তাহের ওই ক্যাম্পে যোগ দিতে ২৩ বা ২৫ তারিখ রওনা হবেন তিনি। সেখান থেকে দেশে ফিরে অগাস্টে মিউনিখে পাড়ি দেবেন। তারপর বাকি অনুশীলন বায়ার্নের পরিকাঠামোয় সারবেন। সাম্প্রতিককালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার রবার্ট লেওনডস্কিকে কাছে থেকে দেখতে পাওয়ার সুযোগ পেতে চলেছেন। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত শুভ। তাঁর কথায়, অত বড় ফুটবলার। ওর থেকে আমি শ্যুটিং শিখতে চাই। গোলের সামনে কীভাবে শট নিতে হয় তা শিখতে চাইব।

আপাতত বায়ার্নের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লিতে সুদেভার অ্যাকাডেমিতে অনুশীলন করছেন। সেখান থেকেই ফোনে বললেন, আই লিগে খেলার সুযোগ পরেও পাব। তবে বায়ার্নের অংশ হওয়ার সুযোগ বারবার আসে না। আমার পরিবারকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে চাই। এজন্য এই সুযোগ আমাকে কাজে লাগাতেই হবে। অনুশীলনের বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে গেমস খেলতে ভালোবাসেন শুভ। অবশ্য সেখানেও থাকে ফুটবলের ছোঁয়া। প্লেস্টেশন বা এক্সবক্সে ফিফা আর মোবাইলে পেস (প্রো ইভিলিউশন সকার) খেলেন। এবার সেই গেমের চরিত্রদের সামনে থেকে দেখার সুযোগ পাবেন শুভ।

বায়ার্নের যুব দলের কোচ ক্রিস্টোফার লোচের অধীনে অনুশীলন করবেন শুভরা। পারফরমেন্স ভালো হলে অ্যাকাডেমির মূল দলেও জায়গা করে নিতে পারবেন ওয়ার্ল্ড স্কোয়াডের সদস্যরা। বায়ার্নের অ্যাকাডেমি থেকে একসময় উঠে এসেছেন টমাস মুলার বা হালফিলের জামাল মুসিয়ালা। সেই তালিকায় কি শুভ পালেরও নাম যোগ হবে? স্বপ্ন দেখতে অসুবিধা কোথায়!