মোদি মন্ত্রীসভার রদবদলে বঙ্গের গুরুত্বে নজর

138

তরুণপ্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদি মন্ত্রীসভায় রদবদলের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এই রদবদলে পশ্চিমবঙ্গকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা আছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। যদিও এ নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। এতে কোনও ভুল বার্তা রাজ্যে আসতে পারে বলেও দলের কোনও কোনও অংশের মত। দ্বিতীয় পর্বে ফের সংসদের বাজেট অধিবেশন নির্ধারিত রয়েছে ৮ মার্চ থেকে। তার আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় রদবদল হবে বলে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সূত্রে জানা গিয়েছে। এই পরিবর্তনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নতুন করে দু-একজনকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করার পরিকল্পনা আছে। এতে বাংলায় সর্বভারতীয় দলের নজর ও আন্তরিকতা কতটা, তা বোঝানোর সুযোগ থাকবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য থেকে মন্ত্রী করার ব্যাপারে বিজেপির শীর্ষস্তরে ভিন্ন মতও আছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। বিজেপির সামনে আসন্ন ভোটে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার মতো কোনও মুখ নেই। সেহেতু কাউকে মুখ না করেই নির্বাচনি প্রচারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে দলে। কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরে প্রচার করবে না বিজেপি। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের ওজনদার কাউকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দিলে রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রিত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে বাংলায় বার্তা যেতে পারে বলে দলের কেউ কেউ মনে করছেন।

দ্বিতীয়ত, আগেই ওজনদার কাউকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিলে বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিদার হওয়ার সুযোগ কমে যাবে কিংবা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রিত্বে ফেরালে প্রশ্ন উঠতে পারে যে বিজেপিতে যোগ্য লোকের অভাব বলে একই লোককে নিয়ে টানাটানি চলছে।  তৃতীয়ত, ভোটের পর সরকার গঠন করতে না পারলে তখন রাজ্য থেকে ২-৩ জনকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হত। তাতে অন্তত বাংলার মানুষকে সদর্থক বার্তা দিতে পারতেন মোদি, যাতে মনে হবে হারলেও পশ্চিমবঙ্গকে ছুড়ে ফেলে দিল না বিজেপি। দলের শীর্ষস্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রদবদলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় ঠাঁই হতে পারে কংগ্রেস ত্যাগী মধ্যপ্রদেশের সাংসদ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার। তাঁকে অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তাঁর বাবা মাধবরাও সিন্ধিয়া একসময় এই মন্ত্রকের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। নীতীশ কুমারের দল জেডিইউকে এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় শামিল করার চেষ্টা চলছে। এনডিএ জোটে থাকলেও এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় দলকে শামিল করতে চাননি নীতীশ। কিন্তু বিহারে গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির তুলনায় অনেক খারাপ ফল করায় তিনি এখন ব্যাকফুটে। এই সুযোগে বিজেপি তাঁকে জড়িয়ে রাখতে চায় তাঁর দলকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দিয়ে ওই সূত্রে জানা গিয়েছে, এ ব্যাপারে জেডিইউয়ের সংসদীয় দলের নেতা আরসিপিএম সিংয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে দুদফায় আলোচনা সেরেছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। প্রধানমন্ত্রী চান, এনডিএর প্রত্যেকটি সহযোগী দল থেকে মন্ত্রীসভায় প্রতিনিধিত্ব থাকুক। এছাড়া পারফরমেন্স বিচার করে বর্তমান একাধিক মন্ত্রীকে দলের কাজে পাঠিয়ে মন্ত্রীসভায় নতুন মুখ আনতে পারেন মোদি।

- Advertisement -

অন্যদিকে, বাংলায় সাত দফা ভোট নিয়ে সর্বভারতীয় শাসকদলের আপত্তি থাকায় নির্বাচন কমিশন কিছুটা আপসের জায়গায় যেতে পারে। কমিশন অবশ্য মনে করে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট করাতে সাত দফাই যথেষ্ট। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে জগদীপ ধনকরের একাধিক রিপোর্টের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার চায়, বিধানসভা ভোট আট দফায় হোক। তাতে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনে অসুবিধা হবে না। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা এমনই চান বলে সূত্রের খবর। কিন্তু রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের সমালোচনা এড়াতে এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রক্ষার তাগিদে নির্বাচন কমিশন সাত দফা ভোটের পক্ষেই। কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারের ইচ্ছা এবং নিজেদের ভাবমূর্তি বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে শেষ পর্যন্ত সপ্তম দফার ভোট দুদিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা আগামী ১২ এপ্রিল অবসর নেবেন। তাঁর একান্ত ইচ্ছা, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের অন্তত ১ দফা পরিচালনা করবেন অবসরগ্রহণের আগে। ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে নানা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই চলতি মাসের শেষে  পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অসম, তামিলনাডু, পুদুচেরিতে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে কমিশন। সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যে কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনায় আধাসামরিক বাহিনীর অভাব হবে না।