চা বাগানের মেয়েদের আলোর দিশা দেখাচ্ছেন শুক্লা

82

সমীর দাস, হাসিমারা : চা বাগানের মহিলাদের স্বনির্ভর করার স্বপ্ন নিয়ে তাঁদের পাশে থাকতে চান নিউ হাসিমারার সুভাষপল্লির শুক্লা দেবনাথ। কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খুলে নয়, নিজের প্রচেষ্টাতেই বাগানের মেয়েদের কখনও রূপটানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন আবার কখনও বাগানের কিশোরীদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে ক্যারাটে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছেন শুক্লা। বাগানের মেয়েদের স্বনির্ভর করতে টাকা জোগাড় করার জন্য তিনি বাড়িতে শিশুদের কোচিং ক্লাস খুলেছেন। সেখান থেকে যা আয় হয় তার পুরোটাই তিনি চা বাগানের মেয়েদের স্বনির্ভর করতে খরচ করছেন। সারা জীবন তিনি এই কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

ডুয়ার্সের অ্যাম্বুল্যান্স দাদা করিমুল হককে সবাই চেনেন। কথা প্রসঙ্গে করিমুল সাহেব যে তাঁর আদর্শ সেকথাও জানিয়েছেন শুক্লা। তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে কোনও মঞ্চ লাগে না। এটা প্রমাণ করে দিয়েছেন করিমুল সাহেব। তিনিও একা নিজের ইচ্ছেশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্দিনে পাশে থাকছেন সবসময়। তাঁর আদর্শকে সামনে রেখেই কোনওরকম মঞ্চ তৈরি না করে নিজেই বাগানের মহিলা ও কিশোরীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি বলে জানিয়েছেন শুক্লা।

- Advertisement -

শুক্লা বলেন, তিনি নিজে রূপটানের কোর্স করেছেন। এরপর সুভাষিণী চা বাগানের মহিলা ও কিশোরীদের স্বনির্ভর করতে অন্তত ৫০টি মেয়েকে তিনি এই কোর্স করিয়েছেন। এর জন্য তিনি কোনও টাকাপয়সাও নেননি। এছাড়াও আলিপুরদুয়ার জংশন এলাকার বাসিন্দা ক্যারাটে প্রশিক্ষক দেবব্রত নন্দীকে অনুরোধ করে বাগানের মেয়েদের নিঃশুল্ক ক্যারাটে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। তাঁর বাড়ি থেকে সুভাষিণী চা বাগানের দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। ওই পথ তিনি প্রতিদিন হেঁটে বাগানে পৌঁছে মেয়েদের প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করেন। বাগানের মেয়েদের বিনামূল্যে মাঝেমধ্যে তিনি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করে সচেতন হওয়ার বার্তা দেন। শুক্লা বলেন, আমার ইচ্ছে আছে সারাজীবন এইভাবে শ্রমিক পরিবারের মেয়েদের স্বনির্ভর হতে তাঁদের পাশে থাকার। তিনি বলেন, করিমুল সাহেব আমাকে এর জন্য উত্সাহ দিচ্ছেন। তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।