মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন শুভেন্দু, কমিশনে নালিশ তৃণমূলের

207

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নে ত্রুটির অভিযোগ এনে তা বাতিল করার দাবি করেছিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই নির্বাচন কমিশনকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ জানাল তৃণমূল। নন্দীগ্রাম এবং হলদিয়া, দুটি বিধানসভা কেন্দ্রেই শুভেন্দুর নাম রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ওব্রায়েন। তাই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। ভোটের ১৩ দিন আগে এই ইস্যুতে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে নন্দীগ্রাম।

মনোয়নপত্র দাখিলের সময় শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন, তিনি নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। ভোটার তালিকায় তাঁর পার্ট নম্বর ৭৬ এবং সিরিয়াল নম্বর ৬৬৯। তৃণমূলের অভিযোগ, তিনি শুধু নন্দীগ্রামের নন, হলদিয়া বিধানসভা কেন্দ্রেরও ভোটার। সেখানকার ৩০৫ নম্বর সিরিয়াল নম্বরে তাঁর নাম রয়েছে। ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধি আইনের ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ মিললে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হওয়ার বিধান আছে। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে দ্রুত শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নালিশ করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এনিয়ে শুভেন্দু সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন, কমিশনের কাছ থেকে কোনও চিঠি পেলে তিনি তার জবাব দেবেন।

- Advertisement -

তমলুক কেন্দ্রের সাংসদ হওয়ার পর শুভেন্দু হলদিয়ার ভোটার হন। এবছরই সেখান থেকে নিজের নাম পরিবর্তন করে নন্দীগ্রামে এনেছেন। কিন্তু, হলদিয়া কেন্দ্র থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়নি। ভোটার তালিকায় নাম পরিবর্তনের জন্য ৬ নম্বর ফর্মে যে আবেদন করেছিলেন শুভেন্দু, তাতেও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ করেছে তৃণমূল। ওই আবেদনপত্রে শুভেন্দু তাঁর স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে নন্দীগ্রামের মৃণাল বেরার বাড়ি উল্লেখ করেছেন। তৃণমূলের দাবি, কোনও জায়গার ভোটার হতে গেলে সেখানে ৬ মাস স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হয়। ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র জেলা প্রশাসনের কাছে যাওয়ার পর বুথ লেভেল অফিসার বিজলি গিরি রায় তদন্ত করে যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন, তাও অভিযোগপত্রের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে তৃণমূল। সেখানে সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসার (বিএলও) লিখেছেন, শুভেন্দু সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নন।

যদিও, বিজেপির দাবি, বিএলওর রিপোর্ট তৃণমূলের হাতে কী করে গেল। তা তদন্ত করে দ্রুত কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।