অনুব্রত মণ্ডলের ‘অনুগত’ হয়ে চলতে পারব না: সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী

388

বর্ধমান: শুভেন্দু অধিকারী ও মিহির গোস্বামীর পর এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। মঙ্গলবার বর্ধমানে এসে তিনি জানান, তাঁর বিধানসভা ক্ষেত্র পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট। সেখানে তাঁর অনুগামীদের মিথ্যা মামলায় জেলে পুরে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি মঙ্গলকোটে চলছে অবৈধ বালির কারবার।ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলেরই একাংশ এইসব কাজ করছেন বলে মন্ত্রীর অভিযোগ। এসব বিষয়ে এদিন জেলা প্রশাসন ও জেলার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানাতে যান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে রাজ্যের শাসক দলের মন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে নিশানা করে এদিন এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করলেও একবারের জন্যও অনুব্রতর নাম তিনি মুখে আনেননি। তবে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর এদিন সাফ জানিয়ে দেন, অনুব্রত মণ্ডলের ‘অনুগত’ হয়ে তিনি চলতে পারবেন না। উনি বড় খেলোয়াড়। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী দাবি করেন, তাঁকে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।

- Advertisement -

বালির অবৈধ কারবার বন্ধে প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তার পরেও জেলায় বালির অবৈধ কারবার যে চলছে সেই কথাই এদিন শোনা গেল মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর মুখে। এদিন তিনি অভিযোগ করেন, বৈধ বালির খাদান থেকে ‘নিয়ম বহির্ভূত’ ভাবে বালি তোলা হচ্ছে। এই বিষয়ে  কথা বলতে এদিন তিনি প্রথমে জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। পরে তিনি জেলাশাসক এনাউর রহমানের কাছেও যান।

প্রশাসনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব দাবি করেন, মঙ্গলকোটে ২২টি বালি খাদান রয়েছে। বৈধ খাদান থেকে অবৈধ উপায়ে বালি তোলা হচ্ছে। একটি চালানে অনেক বালির গাড়ি যাচ্ছে। অথবা একটি বৈধ ঘাটের সঙ্গে অনেকটা এলাকা নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালি তোলা হচ্ছে। এছাড়াও এক জায়গার চালানে অন্য খাদান থেকেও বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরকম ভাবে বালি তোলায় সরকারের রাজস্ব ফাঁকি পড়ছে।

মন্ত্রী জানান, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর একযোগে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছে। মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, তিনি কোনও কাজ করতে গেলে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। বিধায়ক তহবিলের উন্নয়নের কাজ ‘আটকে’ যাওয়ার কথাও জেলাশাসককে জানিয়েছেন বলে তিনি জানান। মন্ত্রীর দাবি, ভাল্যগ্রাম, গিধগ্রাম সহ আর একটি পঞ্চায়েতে ২০১৭ সালে অ্যাম্বুল্যান্স দেওয়া হয়েছিল। সেই অ্যাম্বুল্যান্সগুলির পরিষেবা মানুষ পাচ্ছেন না। ওই অ্যাম্বুল্যান্সগুলি সেখান থেকে তুলে নিয়ে সরকারি সংস্থাকে দেওয়ার দাবিও প্রশাসনের কাছে তিনি রেখেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীরা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে আসছেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এদিন একই অভিযোগ সামনে আনেন। তিনি বলেন, ‘আমার অনুগামীদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে পোরা হচ্ছে। ২০১৮ সাল থেকে এখনও এমন অনেকে জেলে আছে।’ অনুব্রত মণ্ডল বা দলের অন্যকোনও নেতার নাম মুখে না এনে সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ চাপ দিয়ে এইসব মিথ্যা মামলা কারাচ্ছে। সব মিটে গেলেও অনেককে গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ গোটা ব্যাপার জানে। তাদের নামের লিস্ট আমি পুলিশকে দিয়েছি। এবিষয়ে পুলিশ সুপার আমাকে বলেছেন, মামলা কী পর্যায়ে আছে তা তিনি দেখে নিচ্ছেন।’

সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দল যদি তাঁকে ফের মঙ্গলকোটের প্রার্থী করে, তাহলে তাঁকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। তিনি কারও অনুগত হয়ে থাকতে পারবেন না। যদিও সিদ্দিকুল্লাহর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অনুব্রত মণ্ডল পাল্টা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এদিকে, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর এমন মন্তব্যে উৎফুল্ল বিজেপি শিবির।