সোনা পাচারের করিডর হয়ে উঠেছে শিলিগুড়ি

424

শিলিগুড়ি : অবৈধ সোনা পাচারের নিরাপদ করিডর হয়ে উঠেছে শিলিগুড়ি। চিন থেকে মায়ানমার হয়ে সোনা অসম-বাংলা সীমান্ত পেরিয়ে শিলিগুড়িতে এসে চলে যাচ্ছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশে। এছাড়া কলকাতা, বিহার সহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার হচ্ছে সোনা। গত ছয় মাসে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তর (ডিআরআই)-এর অভিযানের পর ধৃতদের জেরা করে এমনটাই জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, গত ছয় মাসে সোনা পাচারের অভিযোগে ২০ জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছে। প্রায় ২৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। ধৃতদের অধিকাংশই মণিপুর ও মিজোরামের  বাসিন্দা। কয়েকজন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের বাসিন্দা। এরা সকলেই ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। উদ্ধার হওয়া সোনার বেশিটাই চিন থেকে মায়ানমার হয়ে ভারতে এসেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরে সোনা পাচারের ঘটনা অনেকটাই বেড়েছে। মূলত উত্তরবঙ্গ এবং শিলিগুড়িকে করিডর হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই ভারত সহ প্রতিবেশী দেশগুলিতে সোনার অবৈধ কারবার চলছে। চিন থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা চোরাপথে মায়ানমার হয়ে ভারতে ঢোকে। এরপর মিজোরাম, অসম, আলিপুরদুয়ার হয়ে জাতীয় সড়ক ধরে ফুলবাড়ি হয়ে শিলিগুড়িতে প্রবেশ করে। কখনও ফুলবাড়ি থেকে ক্যানাল রোড, ফাঁসিদেওয়া, বিধাননগর, ইসলামপুর হয়ে বিহার, কলকাতার দিকে চলে যায় সোনা। আবার কখনও ফুলবাড়ি থেকে শিলিগুড়ি শহর হয়ে দার্জিলিং মোড়, পানিট্যাঙ্কি হয়ে সোনা নেপালে যায়। ডিআরআই সূত্রে খবর, নেপাল, ভুটানের পাশাপাশি বাংলাদেশেও সোনা যাচ্ছে। গত কয়ে মাসে ডিআরআইয়ে কয়েটি অভিযানে এর প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে।

মূলত, জুতো, বেল্টের ভেতরে পাচার হয় সোনার বাট ও বিস্কুট। গত মাসের ১৬ তারিখ তিন কোটি টাকার সোনা সহ অসমের বাসিন্দা চারজনকে ডিআরআই গ্রেফতার করেছিল। তাদের হেপাজত থেকে ৭ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়েছিল। অসম নম্বরের দুটি বাসে অভিয়ান চালিয়ে দার্জিলিং মোড় থেকে অভিযুক্তদের ডিআরআই গ্রেফতার করেছিল। তাদের জুতো থেকে সোনার বিস্কুট উদ্ধার হয়েছিল। তার আগে গত  ১৯ অগাস্ট ফাঁসিদেওয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গাড়ি সহ তিনজকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেপাজত থেকে চার কোটি টাকার সোনা উদ্ধার হয়। অভিযুক্তরা সকলেই মিজোরামের বাসিন্দা।

- Advertisement -

ডিআরআই সূত্রে খবর, চলতি বছরের জুলাই মাসে ১২ কেজি, অগাস্ট মাসে ১০ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। এ ব্যাপারে ডিআরআইয়ের উত্তরবঙ্গের এক আধিকারিক বলেন, মূলত চিন থেকে মায়ানমার হয়ে সোনা ভারতে ঢোকে। এরপর অসম-বাংলা সীমান্ত পেরিয়ে শিলিগুড়ি হয়ে বিভিন্ন জায়গায় পাচার হয়। আমাদের লাগাতার অভিযানে প্রচুর সোনা উদ্ধার হয়েছে। এসএসবির শিলিগুড়ি ফ্রন্টিয়ারের আইজি এস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভারত-নেপাল এবং ভারত-ভুটান বর্ডার সব সময় খোলা থাকে। আমাদের আধিকারিকদের সবসময় নজর থাকে। আগামীতেও থাকবে।