করোনার থাবা, কর্মীসংকটে জেরবার শিলিগুড়ি পুলিশ

208

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি পুলিশে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। থানা থেকে শুরু করে পুলিশলাইন, ব্যারাক- সর্বত্রই থাবা বসিয়েছে ওই মারণ ভাইরাস। বিভিন্ন থানার আইসি, ওসি থেকে শুরু করে পুলিশ কমিশনারেটের বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ইতিমধ্যে করোনায় সংক্রামিত হয়েছেন। তাঁদের সংস্পর্শে এসে অনেকেই কোয়ারান্টিনে রয়েছেন। অনেকে আবার সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। ইতিমধ্যে শিলিগুড়ির এক ডিএসপি পদমর্যাদার পুলিশকর্মীও অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। এসবের বাইরেও লকডাউন সামাল দিতে হচ্ছে শিলিগুড়ি পুলিশকে। একেই প্রয়োজনের তুলনায় লোকবল কম, তার ওপর বিভিন্ন থানায় মারণ ভাইরাসের থাবায় শিলিগুড়ি পুলিশে কর্মীসংকট দেখা দিয়েছে। যে কারণে পুলিশের কাজে কিছুটা হলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।  যদিও উপসর্গ না থাকলে সংক্রামিতের সংস্পর্শে আসা পুলিশকর্মীদের আইসোলেশনে পাঠানো হচ্ছে না, স্বেচ্ছায় পুলিশকর্মীরা হোম আইসোলেশনে যাচ্ছেন বলে দাবি পুলিশকর্মীদের একাংশের। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের নীচুতলায় চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, করোনা সংক্রামিত পুলিশকর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ সেল তৈরি করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কমিশনারেটের সংক্রামিত পুলিশকর্মীদের পরিবারকেও সবরকম সহয়োগিতা করবে ওই সেল। বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) নিমা নরবু ভুটিয়া বলেন, সাধারণ মানুষের মতোই যে সমস্ত পুলিশকর্মী সংক্রামিত হচ্ছেন তাঁদের পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি। আর যাঁরা সংক্রামিত পুলিশকর্মীদের সংস্পর্শে যাচ্ছেন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তাঁদের কোয়ারান্টিনে পাঠানো হচ্ছে।

- Advertisement -

শিলিগুড়িতে প্রতিনিয়তই সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন শিলিগুড়ি শহরে সাতদিনের কড়া লকডাউন ঘোষণা করেছে। এই অবস্থায় পারিবারিক বিবাদ থেকে শুরু করে কোভিড সংক্রামিত পরিবারকে সুরক্ষা প্রদান, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ সবই সামলাতে হচ্ছে পুলিশকে। আবার করোনায় মৃতের দেহ দাহ করতেও যেতে হচ্ছে পুলিশকে। পাশাপাশি নিজ নিজ থানা এলাকার কনটেনমেন্ট জোনের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে পুলিশকর্মীদের। ফলে থানাগুলিতে এমনিতেই কর্মীসংকট থাকছে। তার ওপর কোনও পুলিশকর্মী করোনায় সংক্রামিত হতেই তাঁর সংস্পর্শে আসা কর্মীদের কোয়ারান্টিনে যেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় মাসখানেক ছুটিতে থাকতে হচ্ছে ওই পুলিশকর্মীদের। ওই সময়কালে তাঁদের জায়গায় দায়িত্ব সামলাতে নতুন কোনও পুলিশকর্মী নিযুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট থানায় কম সংখ্যক কর্মী দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাব-ইনস্পেকটর পদমর্যাদার পুলিশকর্মী বলেন, চাকরি বাঁচাতে আমাদের চুপ করে কাজ করতে হচ্ছে। আমাদের অনেক সহকর্মী সংক্রামিত হচ্ছেন, তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা আসছেন তাঁদের সেভাবে কোয়ারান্টিনেও পাঠানো হচ্ছে না। বেশিরভাগই স্বেচ্ছায় কোয়ারান্টিনে গিয়েছেন। তাঁদের অনেকের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।