শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সামনে জড়িবুটির ব্যবসা

347

তমালিকা দে  শিলিগুড়ি : হাসপাতালের দেয়ালে লেখা রয়েছে অসুস্থ হলে তাবিজ, ওঝা, জড়িবুটির উপর বিশ্বাস না রেখে ডাক্তার দেখানো উচিত। অথচ হাসপাতালের সামনেই দেদার বিক্রি হচ্ছে সর্বরোগ সারিয়ে দেওয়ার তাবিজ, শিকড়-বাকড়, তেল এবং বিভিন্ন গুঁড়ো ওষুধ। বলা হচ্ছে, ডায়াবিটিস থেকে হাঁপানি সবকিছুই নাকি ঠিক হয়ে যাবে শিকড়ে ভেজানো জল খেলে! শরীর ভালো রাখার জন্য বিভিন্ন রকমের আংটিও বিক্রি হচ্ছে। দশ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচশো টাকা পর্যন্ত দামের ওষুধ। সুস্থ হওয়ার আশায় প্রতিদিন অনেক মানুষ এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। এভাবেই দিনের পর দিন শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সামনে জড়িবুটির ব্যবসা চলছে।

জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগ খোলার সময় থেকেই হাসপাতালের রাস্তার দুধারে বসে যান জড়িবুটি ব্যবসায়ীরা। বোর্ডে লেখা হয়েছে, সমস্ত রোগের উপশমের ওষুধ এখানে পাওয়া যাবে। পথচলতি লোকের পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে রোগীর আত্মীয়দের ডেকে জড়িবুটির ব্যাপারে বোঝানো হয়। ক্রেতা পেলে কখনও হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আংটি, কখনও আবার গাছের শিকড়। প্রতিদিন হাসপাতালের সামনে রমরমিয়ে এই ব্যবসা চলছে। হাসপাতালের সামনে বিক্রি খাবারের গুণগতমান, পার্কিংয়ে বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি যখন থাকে, তখন এই দিকে নজর নেই কেন- সেই প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের সামনে বসেই মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন এই ব্যবসা চলছে।

- Advertisement -

জেলা হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, এভাবে জড়িবুটির ব্যবসা করে লোক ঠকানো খুব খারাপ। হাসপাতাল চত্বরের বাইরে হচ্ছে বলে আমরা এনিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারব না। বিষয়টি নিয়ে পুরনিগমের দেখা উচিত। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানাব। এব্যাপারে পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ শংকর ঘোষ বলেন, এসব রুখতে এতদিন নাগরিক সচেতনতার উপর জোর দেওয়া হত। কিন্তু এখন দেখা য়াচ্ছে, এনিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আমি পুর কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে দেখব। যদি না হয়, তাহলে রাজ্য সরকারকে জানাব।