ভাঙা রাস্তায় নজর নেই, ঘর সাজাতে ব্যস্ত শিলিগুড়ি পুরনিগম

424

শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি শহরের বেশিরভাগ রাস্তার কঙ্কালসার দশা। পুরনিগমের দাবি, টাকার অভাবে উন্নয়নের কাজ সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না। তবে পুরনিগমে জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকদের ঘর সাজাতে বর্তমান বাম পরিচালিত পুরবোর্ডের কোনো কার্পণ্য দেখা যায় না। কিছুদিন আগে মেয়রের জন্য একতলার একটি ঘর সাজানো এর অন্যতম উদাহরণ। যদিও মেয়র ওই ঘরে বসেন না। এবার পুরনিগমের শিক্ষাবিভাগের মেয়র পারিষদ শংকর ঘোষ, বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার, কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা সুজয় ঘটক, সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের (ইলেক্ট্রিক্যাল) ঘরে এসি বসানোর জন্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। এতই যখন টাকার অভাব, তখন এত টাকা খরচ করে এসি বসানো হচ্ছে কেন- সেই প্রশ্ন উঠছে।

মজার কথা হল, দেড়বছর আগে পুরনিগমের তিনতলায় যখন সুজয় ঘটককে ঘর দেওয়া হয়, তখন থেকেই সেখানে এসি লাগানো রয়েছে। তিনতলার ছোটো ঘরটি পাঁচজন বসলেই ভরে যায়। তাই সেখানে নিশ্চয়ই দুটো এসি বসানোর দরকার নেই। তাহলে কি এতদিনে ওই এসি মেশিনটির টাকা মঞ্জুর করা হল? তাহলে টাকা মঞ্জুর করতে এত দেরি হল কেন তা বোঝা যাচ্ছে না। সুজয়বাবু বলেন, আমাদের যেদিন প্রথম ঘর দেওযা হযেিল সেদিন থেকেই ঘরে এসি দেওযা হয়েছিল। রঞ্জন সরকারের ঘরে এসি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও রঞ্জনবাবু তিনতলায় তাঁর ঘরে বসেন না। তিনি একতলায় তৃণমূল কাউন্সিলারদের ঘরেই বসেন। যার ফলে তিনতলার ঘরটিতে এসি বসানো নিরর্থক।

- Advertisement -

মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে কিছু না জানিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে একতলায় একটি ঘর সাজানো হয়েছিল। নতুন চেয়ার, টেবিল, কার্পেট, ফ্যান, এসি সব কিনে ঘরটি ঝকঝকে করে সাজানো হয়েছিল। নতুন করে তৈরি করা হয়েছিল শৌচাগারও। কিন্তু আগ বাড়িয়ে করা এই সব কাজই পণ্ডশ্রম হযে গেল। কলকাতা থেকে ফিরে মেয়র সোজা দোতলায় নিজের পুরোনো ঘরেই চলে যান। লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাজানো ঘর বিনা ব্যবহারেই পড়ে রযেছে।

এদিকে, শহরের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা সত্ত্বেও তা মেরামতের পথে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে না পুরনিগমকে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা ভেঙে যা অবস্থা তাতে প্রতিদিন দুর্ঘটনায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক রাস্তায় জল জমে ডোবার আকার নিয়েছে। কিন্তু পুজোর আগে পুরনিগমকে রাস্তা মেরামত করতে দেখা যাচ্ছে না। যার ফলে বহু রাস্তা সাধারণ মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত পুরনিগমের রবীন্দ্রনগর, হাকিমপাড়ার রাস্তাঘাট, অতুল প্রসাদ সরণির মতো রাস্তা যেখানে প্রতিদিন প্রচুর যানবাহন চলাচল করে সেখানকার রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, অল্প বৃষ্টিতেই জল থইথই করছে। অথচ রাস্তা তৈরিতে মন না দিয়ে পুরনিগম জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকদের ঘর সাজানোতেই ব্যস্ত।

পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র তথা বিদ্যুৎ বিভাগের মেয়র পারিষদ রামভজন মাহাতো বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি। তবে নতুন করে এসি মেশিন বসানো হবে না। নতুনভাবেযয়দি কিছু না বসানো হয় তবে এতদিন পর এসি বসানোর টাকা কী করে মঞ্জুর হল সেই প্রশ্ন উঠছে। রাস্তাঘাটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শহরের বেশ কিছু রাস্তা মেরামত করছি।