ডেঙ্গি মোকাবিলায় পিছিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগম

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : করোনা যুদ্ধে ব্যস্ত শিলিগুড়ি পুরনিগম ডেঙ্গি প্রতিরোধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ শিলিগুড়ি পুরনিগম সূত্রে খবর, গতবছর পুর এলাকায় ১,৭০০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে এবার ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিলে করোনার পাশাপাশি তা সামাল দিতে পুরনিগমকে নাজেহাল হতে হবে, এমনই আশঙ্কা করছেন শহরের বাসিন্দারা।

এবার করোনার কারণে পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। জুন মাসের প্রথম থেকে বর্ষা শুরু হলেও এখনও পুর এলাকায় সেভাবে ডেঙ্গি নিয়ে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এর কারণ হিসাবে অনেকেই বলছেন, শিলিগুড়ি পুর এলাকায় যেভাবে দিনের পর দিন করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, তার মোকাবিলাতেই বেশি সময় দিতে হচ্ছে পুরকর্মীদের। বিশেষ করে বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্যানিটাইজ করার জন্য প্রতিদিন প্রচুর পুরকর্মীকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় করোনা আক্রান্তের হদিস মেলে, সেইসব এলাকায় বিশেষ নজর দিতে হচ্ছে পুরকর্মীদের। ফলে বর্ষা নেমে গেলেও এখনও সেভাবে ডেঙ্গি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করতে পারেনি শিলিগুড়ি পুরনিগম। শিলিগুড়ি শহরের বেশ কিছু নির্মীয়মাণ ভবনে বৃষ্টির জল জমে থাকলেও সেদিকে নজর দিতে পারেননি পুরকর্মীরা। নির্মাণকারী সংস্থাগুলি সুযোগ বুঝে তা পরিষ্কার করার ব্যাপারে উদ্যোগী হচ্ছে না বলেই অভিযোগ।

- Advertisement -

প্রতিবছর মে মাসের শেষ থেকে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে শিলিগুড়ি শহরে। গত কয়ে বছরের রেকর্ড বলছে, শিলিগুড়ি শহরে প্রতিবছর ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত বছর ১,৭০০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার আগের বছরগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিবারই হাজার ছাড়িয়েছে। অথচ প্রতিবছর জানুয়ারি মাস থেকে শিলিগুড়ি পুরনিগমের উদ্যোগে ডেঙ্গি নিয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজ শুরু হয়। এই সময় ডেঙ্গির প্রকোপ যাতে না বাড়ে সেই কারণে বছরের শুরু থেকে উদ্যোগী হয় পুরনিগম। এবার করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গি নিয়ে কিছুটা হলেও তারা পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে এই সময় তেল, ব্লিচিং পাউডার এবং ফগিং মেশিন দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এবার কিন্তু সেভাবে তা চোখে পড়ছে না।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের বাম পরিচালিত বোর্ডের মেয়াদ গত মাসের ১৮ তারিখে শেষ হয়েছে। এরপর থেকে শিলিগুড়ি পুরনিগমে প্রশাসকমণ্ডলী দায়িত্বে থাকলেও সম্প্রতি প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার‌্য করোনায় সংক্রামিত হয়ে নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য মুকুল সেনগুপ্তও করোনায় সংক্রামিত। ফলে পুরনিগমের কাজে বেশ কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে জানা গিয়েছে, জুলাই মাস থেকে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কাজ শুরু হবে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনার সোনম ওযাংদি ভুটিয়া বলেন, পুরনিগমের উদ্যোগে ডেঙ্গি মোকাবিলায় কাজ শুরু হয়েছে। করোনার মোকাবিলায় যেহেতু পুরকর্মীরা বিভিন্নভাবে ব্যস্ত রয়েছেন, সেই কারণে ডেঙ্গির কাজে কিছুটা দেরি হচ্ছে, এটা ঠিক। তবে সরকারি নির্দেশ এলে জুলাই মাস থেকে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কাজ শুরু হবে।