কোন শিবিরে থাকলে টিকিট মিলবে, ফাঁপরে তৃণমূল নেতারা

312

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : পুরভোটে কোন শিবিরে থাকলে শিকে ছিঁড়তে পারে, সেটাই এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না তৃণমূলের সিংহভাগ টিকিটের দাবিদার। ঝুঁকি না নিয়ে অনেকেই দুই কুল রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার অতি সাবধানি হয়ে সমদূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। গৌতম দেবকে সরিয়ে রঞ্জন সরকার জেলা সভাপতির চেয়ারে বসাতে টিকিট প্রত্যাশীরা ফাঁপরে পড়েছেন। গৌতম না রঞ্জন, টিকিট বণ্টনের ক্ষেত্রে কার সুপারিশ কালীঘাটের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, তারই চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। প্রত্যাশামতো গৌতম দেব এবং রঞ্জন সরকার, দুই নেতাই প্রার্থী বাছাইয়ের ভার শীর্ষ নেতত্বের উপরেই সঁপেছেন। তৃণমূলের উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির চেয়ারম্যান গৌতম দেব বলেন, টিকিট দেওয়ার বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে যাঁরা টিকিট চান, তাঁরা কথা বলতে পারেন জেলা সভাপতির সঙ্গে,  আমার সঙ্গে, এমনকি রাজ্য নেতাদের সঙ্গেও। প্রয়োজনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কাছেও যেতে পারেন। দলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকারের বক্তব্য, দল যাঁকে যোগ্য মনে করবে তাঁকেই প্রার্থী করবে। একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন হয়ে থাকে। পুরনিগমের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

ভোট এলেই প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলেই লড়াই শুরু হয়ে যায়। তেমনভাবেই শুরু হয় দলের শীর্ষ নেতাদের কাছাকাছি থাকার লড়াই। শিলিগুড়িও এর ব্যতিক্রম নয়। লোকসভার ধাক্কা ঝেড়ে ফেলে এনআরসি, সিএএর ধাক্কায় তিন উপনির্বাচনে বিজেপিকে কুপোকাত করে তৃণমূল এখন অনেক উজ্জীবিত। শিলিগুড়ি পুরবোর্ড আর অধরা থাকবে না বলেই মনে করছেন দলের নেতা-কর্মীরা। স্বভাবতই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রার্থীর দাবিদারের লিস্ট লম্বা হয়েছে। কিন্তু দলের উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির চেযারম্যান গৌতম দেব, নাকি জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার, কে টিকিট দেবেন, তা বুঝতে পারছেন না টিকিট প্রত্যাশীরা। সংরক্ষণের আওতায় তৃণমূলের দখলে থাকা কয়েকটি ওয়ার্ড চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায়, সেখানকার কাউন্সিলাররা মহা সমস্যায় পড়েছেন। ক্ষমতার অলিন্দে প্রত্যেকেই থাকতে চান। ফলে সংরক্ষণের কোপে পড়তে চলা ওয়ার্ডগুলির কাউন্সিলাররা নিরাপদ ওয়ার্ড খুঁজছেন। কিন্তু তা পেতে গেলে য়ে বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হবে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন। কিন্তু কার কাছে তদবির করলে ফল মিলবে, সেটাই বুঝতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকজন দুই নেতার সঙ্গেই নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডেই তৃণমূলের টিকিটের দাবিদার অনেক। তাঁদের টপকে অন্য ওয়ার্ড থেকে গিয়ে টিকিট পাওয়াটা সহজলভ্য নয়। শুধু তাঁরা কেন, সংরক্ষণের বাইরে থাকার সম্ভাবনা যে ওয়ার্ডগুলির রয়েছে, সেখানকার তৃণমূল কাউন্সিলাররাও টিকিট পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নন। কেননা তাঁদের ওয়ার্ডেও নতুন মুখ উঠে আসছে। তাছাড়া পুরনিগম দখলের ক্ষেত্রে কয়েকটি ওয়ার্ডে নতুন মুখ তৃণমূল আনতে চলেছে বলে দলের অন্দরেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিকিট জোগাড়ের চাবিকাঠির সন্ধান করে চলেছেন প্রত্যাশীরা। শিলিগুড়ি পুরনিগমের নির্বাচন নিয়ে ১৭ জানুয়ারি সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এই তালিকা প্রকাশের পর এইসব দাবিদারের দৌড়ঝাঁপ নিশ্চিতভাবেই বাড়বে।

- Advertisement -