বসিরহাট, ২১ অক্টোবরঃ শতাব্দী পেরিয়ে আজও ঐতিহ্য বহন করছে ইছামতী পাড়ের ‘সীমান্ত কালী’। বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বাঙলানি গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলিয়া মহাশ্মশানের মা কালী ‘সীমান্ত কালী’ নামেই পরিচিত। কয়েক শতক আগে বাদুড়িয়ার কুলিয়া এলাকার মণ্ডল পরিবারের এক গৃহবধূ স্বপ্নাদেশ পেয়ে হরিশপুরবাসী তাঁর ভাই হারাধন মণ্ডলকে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। সেই মতো হারাধন মণ্ডল ইছামতী নদীর পাশে তেঁতুলিয়া মহাশ্মশানে খড়ের ছাদ দিয়ে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন।

দেশভাগের আগে অধুনা বাংলাদেশের অন্তর্গত খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোহর থেকে প্রচুর পুণ্যার্থী এই মন্দিরে ভিড় করতেন। কিন্তু দেশভাগের পরও পূর্ববঙ্গ থেকে প্রায়ই পুণ্যার্থীরা আসতেন। তারপর ধীরে ধীরে খড়ের ছাউনির মন্দির আজ কংক্রিটে পরিণত হয়েছে। শিব, হনুমান ও জগন্নাথ সহ একাধিক ঠাকুর এই মন্দিরে স্থান পেয়েছেন। কিন্তু ফিকে হয়নি তেঁতুলিয়া মহাকালীর ঐতিহ্য। বংশ পরম্পরায় পৌরহিত‍্য করে চলেছেন পার্শ্ববর্তী হরিশপুর গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা। এই পরিবারের বর্তমান উত্তরসূরী মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায় জানান, কালী পুজোর দিনে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। একইসঙ্গে চলে ভোগ বিতরণ। পুজোর কয়েকদিন মন্দির চত্বরে মেলাও বসে।