সরকারি ভাতায় বেঁচে আছেন সিনক্লেয়ার

ওয়েলিংটন : লর্ডসে টেস্ট অভিষেকেই দ্বিশতরান করে প্রচারের আলোয় উঠে এসেছেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ডেভন কনওয়ে। কিন্তু কিউয়িদের হয়ে ২২ বছর আগে অভিষেকে দ্বিশতরান করা ম্যাথু সিনক্লেয়ার বেকারত্বের অন্ধকারে হারিয়ে যেতে বসেছেন। সরকারের দেওয়া বেকার ভাতার ভরসায় বেঁচে আছেন তিনি।

১৯৯৯ সালে ওয়েলিংটনে বক্সিং ডে টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক হয় সিনক্লেয়ারের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন ২১৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে। এখনও অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের বিচারে ক্যারিবিয়ান লরেন্স রোর সঙ্গে যুগ্মভাবে তিন নম্বরে আছেন তিনি। এর কয়েকমাস পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও ডাবল সেঞ্চুরি আসে তাঁর ব্যাট থেকে। প্রতিভা নিয়ে সংশয় না থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি কখনও। সবমিলিয়ে ৩৩ টেস্টে ১৬৩৫ রান করেন। ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেন।

- Advertisement -

অবশ্য জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার আগে থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে চেনা মুখ সিনক্লেয়ার। ১৯৯৭ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটের দ্বিতীয় মরশুমে নিশ্চিত শতরান থেকে বঞ্চিত করা হয় তাঁকে। শেল ট্রফির একটি নিয়মরক্ষার ম্যাচে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের হয়ে নর্দান ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে ৯৯ রানে ব্যাট করছিলেন। সেসময় বিপক্ষের বোলার ইচ্ছাকৃত একটি ওয়াইড বল করেন যা শেষ পর্যন্ত বাউন্ডারি হয়ে যায়। ফলে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতলেও শতরান পাননি সিনক্লেয়ার। ঘটনায় ক্ষুব্দ সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ক্রিকেটাররা ম্যাচের পর গ্র‌্যান্ট ব্র‌্যাডবার্ন নামে ওই বোলারের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে মাঠ ছাড়েন।

১৮ বছর সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের হয়ে খেলার পর ২০১৩ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন সিনক্লেয়ার। অবসরের পরেই আর্থিক সমস্যায় পড়েন সিনক্লেয়ার। ক্রিকেটে মন দিতে গিয়ে পড়াশোনা শেষ করেননি তিনি। আর ডিগ্রি না থাকায় কোনও চাকরি পাননি। এমনকি ব্যক্তিগত জীবনেও সমস্যা বাড়ে, ছেড়ে চলে যান স্ত্রী টিনাও। বর্তমানে একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থায় কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করেন। বাড়ি বিক্রি করতে পারলে কমিশন জোটে, না হলে মেলে না কিছুই। ফলে সরকারের দেওয়া বেকার ভাতাই তাঁর ভরসা।