রেজাউল হক, পুরাতন মালদা : ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া সিঙ্গাবাদ-পুরাতন মালদা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি গত চার বছর ধরে বন্ধ হয়ে থাকায় অসন্তোষ ছড়িয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে। কথিত আছে, এই ট্রেনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সরোজিনী নাইডুর মতো দেশপ্রেমিকরা সফর করেছিলেন। তবে রেলের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, খাতায় কলমে এই ট্রেন বন্ধের কোনো উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি কোথাও ট্রেন বাতিলের কথাও ঘোষণা করা হয়নি। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গাবাদ-পুরাতন মালদা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে যাতে হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণা করা হয়, তার চিন্তাভাবনা করেছিলেন। প্রাচীন আমলের সেই ট্রেন এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরাতন মালদার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এব্যাপারে পুরাতন মালদা কোর্ট স্টেশনের ম্যানেজার প্রদীপকুমার রায় বলেন, ২০১৫ সাল থেকে সিঙ্গাবাদ-ওল্ড মালদা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর বেশি বিশেষ কিছু বলতে পারব না। তবে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এনএফ রেলের অধীনস্থ এই ট্রেনটি ভারত-বাংলাদেশের শেষ সীমানা থেকে ওল্ড মালদা পর্যন্ত চলাচল করত। বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে দুই জায়গার মধ্যে এই ট্রেনের ভাড়া ছিল মাত্র পাঁচ টাকা। প্রতিদিন সিঙ্গাবাদ থেকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ছাড়ত ট্রেনটি। যা সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ওল্ড মালদা স্টেশনে পৌঁছোত। আর মালদা থেকে এই ট্রেনটি ছাড়ত সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে সিঙ্গাবাদ স্টেশনে পৌঁছোত।

- Advertisement -

বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে একটি কামরা নিয়ে চলাচল করত এই ট্রেনটি। যাত্রাপথে মোট সাতটি স্টেশনে দাঁড়াত। যাত্রী কম হওয়ার কারণেই এই প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে রেলের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে। ২০১৪ সালে ট্রেনটি প্রতিদিনের বদলে সপ্তাহে একদিন করে চলাচল করত। ২০১৫ সালে এই ট্রেনটিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রিটিশ রাজত্বকালে ওল্ড মালদা স্টেশন ছিল মালদা জেলার প্রধান স্টেশন। সেই সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেবরা অবিভক্ত ভারতের বাংলাদেশে ব্যবসার সুবিধায় চালু করেছিল এই ট্রেনটি।

পুরাতন মালদার তৃণমূল নেতা নবরঞ্জন সিন্হা বলেন, সিঙ্গাবাদ-ওল্ড মালদা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের একটা ঐতিহ্য ছিল। ব্রিটিশ আমলের এই ট্রেনটি চার বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীরা সামান্য ভাড়া দিয়ে ট্রেনে যাতায়াত করতে পারতেন। কিন্তু কেন এটি বন্ধ হয়ে গেল, তার কোনো সদুত্তর রেল কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি। আমরা চাই নতুন করে সিঙ্গাবাদ-ওল্ড মালদা ট্রেনটি চালু করা হোক। পুরাতন মালদার বিধায়ক অর্জুন হালদার বলেন, সিঙ্গাবাদ-ওল্ড মালদা ট্রেনটি অনেক পুরোনো। কিন্তু ট্রেনটি এখন আর চলে না। তাই হবিবপুর ব্লকের সিঙ্গাবাদ যেতে গেলে মানুষের এখন সড়কপথই ভরসা। রেল কর্তৃপক্ষ এই ট্রেন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কেন নিল বুঝতে পারিনি। নতুন করে যাতে ওই ট্রেনটি চালু করা হয় তার দাবি জানাচ্ছি।

উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানিয়েছেন, বিষয়টি এনএফ রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কথা বলেছে। তবে আমরা চাই এই রেল পরিসেবা ফের চালু হোক। কারণ, বহু মানুষ ওই ট্রেনে যাতায়াত করতেন। এনএফ রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সিঙ্গাবাদ-ওল্ড মালদা রুটে নতুন একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করার জন্য রেল মন্ত্রককে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পেলেই ওই রুটে আবার যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়ে যাবে।