উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর ই-পেপার পেয়ে আপ্লুত সৌমিত্র

299

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : কয়েক মাস আগে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় পায়ে চোট পেয়ে ঘরবন্দী হয়েছিলেন। মাঝে সুস্থ হয়ে ঐতিহ্যবাহী দোল উৎসবে অংশগ্রহণ করতে কলকাতা থেকে হরিশ্চন্দ্রপুরে এসেছিলেন। আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠায় বাইরে যাওয়ার ছাড়ও মিলেছিল। কিন্তু এরই মাঝে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও দেশব্যাপী লকডাউন-এই জোড়া সংকটের মুখে আবারও ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রখ্যাত গায়ক সৌমিত্র রায়।

তিনি বলেন, ‘ঘরবন্দি অবস্থাতেই প্রতিদিন সকালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর ই-পেপার পেয়ে আমি আপ্লুত। উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর সম্পাদক সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। এভাবেই পাঠকের হৃদয় জয় করুক উত্তরবঙ্গ সংবাদ। লকডাউনের জেরে এমনিতেই কলকাতার বাড়িতে নিয়মিত পেপার আসছে না। কিন্তু সকালে উঠে উত্তরবঙ্গের সমস্ত খবর ফোনের এক ক্লিকেই পেয়ে যাচ্ছি। সকাল সকাল দেশের বাড়ির গন্ধ ড্রইংরুমে উঁকি মারছে।’

- Advertisement -

কথায় কথায় জানালেন ঘর বন্দিদশা কেমন করে কাটাচ্ছেন। সৌমিত্র বলেন, ‘হোম কোয়ারান্টিনে থাকায় এই সময়টায় দ্বিতীয় উপন্যাস লেখা শুরু করেছি। প্রথম উপন্যাস মিস্টার আদিবাসী অনেকের ভালো লেগেছে। তাই অনেকের আবদারে এবার দ্বিতীয় উপন্যাস লিখতে শুরু করেছি। নাম ঠিক করিনি। এবার বইমেলাতে ভূমি নিয়ে লেখা বের করেছি, যা মানুষের পছন্দের তালিকায় ছিল। দ্বিতীয় উপন্যাসের বিষয়বস্তু একটি ছেলেকে কেন্দ্র করে। সমসাময়িক উদ্ভূত পরিস্থিতিও এই উপন্যাসের মধ্যে উঠে আসবে।’

সৌমিত্র জানান, দুর্ঘটনার পরে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছিলাম, বাড়ির বাইরে কিছুটা হাঁটাচলা করেছি। ভেবেছিলাম আবার নিজের গানের দল নিয়ে মানুষের মাঝে ফিরব। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও লকডাউনের জেরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে হল। সরকার যেভাবে হোম আইসোলেশনে থাকতে অনুরোধ করছেন তা প্রত্যেকের মেনে চলা উচিত বলে জানান তিনি।

করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর কাজের ভূয়সী প্রশংশা করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সংকটের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে মাঠে নেমে যেভাবে বাংলার মানুষকে আগলে রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। মা যেমন বিপদে-আপদে সংসারকে আগলে রাখেন, এই মহাসংকটের সময় মমতা দিদিও তেমনভাবেই বাংলাকে সামলে রেখেছেন। এমন মুখ্যমন্ত্রী ভারতে কেন গোটা বিশ্বে নজিরবিহীন।’

কথায় কথায় উঠে এল দেশের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর সহ মালদার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে সংকটের কথা। এ প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, শুনতে পাচ্ছি মালদা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্য থেকে বাড়িতে ফিরছেন। হরিশ্চন্দ্রপুরেও প্রচুর শ্রমিক ঘরে ফিরেছেন। প্রত্যেকটি ঘরে ফেরা শ্রমিককে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে অত্যন্ত সতর্কভাবে ১৪ থেকে ২০ দিন হোম কোয়ারান্টিনে রাখা উচিত।

এই মহাসংকটের পরিস্থিতিতে যে অকল্পনীয় পরিশ্রম করে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানাতে ভোলেননি সৌমিত্র। তিনি বলেন, ‘হরিশ্চন্দ্রপুরের মত ছোট গ্রামীণ এলাকার হাসপাতালগুলোতেও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিবারাত্রি পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছে। ২২ তারিখ জনতা কার্ফিউতে আমিও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে থালা বাজিয়েছি। আশা করছি প্রশাসন স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রচেষ্টায় খুব তাড়াতাড়ি এই সংকটের সময় কেটে যাবে। আবার নতুন ভোরের সূর্য উঠবে। ততদিন ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশ মেনে চলব।’