স্ত্রীর গয়না বেচে শুটিং রেঞ্জ গড়েন সিংহরাজ

টোকিও : স্বপ্ন ছিল, প্যারালিম্পিকের মঞ্চে জাতীয় পতাকাকে সবার ওপরে তুলে ধরবেন। সামান্যর জন্য নিজে পারেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, তা শনিবার ফাইনাল শেষের আগেই বুঝে গিয়েছিলেন ভারতের শুটার সিংহরাজ আধানা।

চলতি প্যারালিম্পিকে দ্বিতীয় পদকটি জিতলেন সিংহরাজ। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের এসএইচ১ ইভেন্টে পেয়েছিলেন ব্রোঞ্জ। এদিন পি৪ মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তলের এসএইচ১ ইভেন্টে পেলেন রুপো। সবমিলিয়ে ২১৬.৭ পয়েন্ট পেয়েছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন হওয়া মনীশ নারওয়াল সোনা জিতলেন ২১৮.২ পয়েন্ট নিয়ে। ইভেন্ট শেষে সিংহরাজ বললেন, আমি খুব খুশি। আমি শুধু জাতীয় পতাকা সবার ওপরে দেখতে চেয়েছিলাম। সেটা পূরণ হয়েছে। জাতীয় পতাকা তোলা ও জাতীয় সংগীত বাজার সময় আমি বেশ উৎফুল্ল হয়ে যাই। সোনা না পেলেও অখুশি নন সিংহরাজ। তাঁর কথায়, আমি রুপো ও ব্রোঞ্জ পেয়েছি। টোকিও প্যারালিম্পিকে নিজের এই পারফরমেন্স সবসময় মনে রাখব। সাফল্যের জন্য কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের পাশাপাশি পরিবার ও গোটা দেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

- Advertisement -

তবে টোকিওয় জোড়া পদক পাওয়ার লড়াইটা সহজ ছিল না সিংহরাজের জন্য। করোনা সংক্রমণের জেরে শুটিং অনুশীলনের সুযোগ হারিয়ে ফেলেন। তাঁর কথায়, কোথাও অনুশীলন করতে পারছিলাম না। একসময় মনে হচ্ছিল, পদক জয়ে স্বপ্ন হয়তো পূরণের সুযোগ পাব না। তখন কোচেরা আমাকে বাড়িতেই শুটিং রেঞ্জ তৈরির পরামর্শ দেন। তবে এজন্য কয়েক লক্ষ টাকার প্রয়োজন ছিল। বাড়িতে বলার পর মা বলেছিল, সবকিছু ঠিকঠাক না হলে সংসার চালাতে সমস্যা হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত রেঞ্জটা তৈরি করে অনুশীলন শুরু করি। কোচের পরামর্শ ছিল অত্যাধুনিক রেঞ্জ তৈরি করা। তাতে পরেও সাহায্য পাবেন সিংহরাজ। সেই কথা মতো অর্থ জোগাড়ের জন্য গয়না বিক্রি করে স্বামীর হাতে অর্থ তুলে দিয়েছিলেন সিংহরাজের স্ত্রী। সেই অর্থ জলে না যাওয়ায় খুশি তিনি।

পোলিওর জন্য দুটি পা প্রায় অকেজো। হাঁটাচলার জন্য ক্রাচের দরকার হয়। তবে নিখুঁত লক্ষ্যভেদের কাজটা একাই পারেন সিংহরাজ।