আচার্যের ক্ষমতা খর্ব সংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা, রাজ্যের তরফে সওয়াল করবেন সিংভি

113
সংগৃহীত ছবি

কলকাতা: রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যকে ক্ষমতাহীন করতে নতুন বিধি গ্রহন করেছিল রাজ্য ২০১৯ সালে। নতুন বিধিতে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণে বা পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজ্যপালের যে ভূমিকা ছিল, তার প্রায় সব ক্ষেত্রেই লাগাম পরিয়ে দেয় রাজ্য সরকার বলে উঠেছিল অভিযোগ। এই আইনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের তরফে একটা জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে দাবি করা হয় রাজ্য সরকার এক তরফা ভাবে এটা করতে পারেনা। দেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত আইনের এটা সম্পূর্ণ বিরোধী। সেই মামলায় এবার রাজ্যের তরফে সওয়াল করবেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ও রাজ্য সভার সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি।

আজ শুক্রবার মামলার শুনানিতে অধ্যাপকদের তরফে আইনজীবী সৌম্য মজুমদার দীর্ঘক্ষণ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনের ধারা উপধারা উল্লেখ করে বলেন, ‘আচার্য(রাজ্যপালের) ক্ষমতা এইভাবে খর্ব করা যায় না। এটা আইন বিরোধী। যদিও রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল ও আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি মামলাকারীদের এই বক্তব্য নস্যাৎ করে দেন। এই মামলাটি আদৌ জনস্বার্থ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে কিনা সেই প্রশ্ন তোলেন। সময়ের অভাবে এদিন তাঁদের বক্তব্য শুনতে পারেনি ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ৪ মার্চ তাঁদের বক্তব্য শুনবে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত ২০১৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ (পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ) আইনের ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী নতুন বিধি কার্যকর করেছে রাজ্য। নতুন আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক উপাধি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি তালিকা আর রাজ্যপালের কাছে পাঠানো বাধ্যতামূলক নয়। এখন থেকে সেই তালিকা রদবদলের ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে নেই। শুধুমাত্র অনুমোদনের জন্য তাকে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যায়ের সমাবর্তন, যোগাযোগ, উপাচার্য নিয়োগ সহ একাধিক বিষয় রাজ্যপাল তথা আচার্যকে প্রায় গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই বহু চর্চা হয়েছে এই বিষয়ে।