আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার জেলার নার্সিংহোমগুলিতে শিশুসাথী প্রকল্পে হার্টের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই।ফলে জেলার গরিব মানুষ সন্তানের চিকিৎসা করাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।সময়মতো হার্টের অসুখের চিকিৎসা না হওয়ায় অনেক শিশুর মৃত্যুও হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।আলিপুরদুয়ার সহ শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের যে কোনো শহরে যাতে শিশুদের হার্টের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় তার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে রাজনৈতিক দলের নেতারা।বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি সিএমওএইচ–২ সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, ‘আগে শিলিগুড়ির নির্দিষ্ট নার্সিংহোম গুলিতে শিশুসার্থী প্রকল্পে হার্টের চিকিৎসা হত।কিন্তু নানা কারণে নার্সিংহোমগুলির সঙ্গে সরকারের চুক্তি বাতিল হয়।তার পর থেকে উত্তরবঙ্গের কোথাও সরকারিভাবে শিশুদের হার্টের চিকিৎসা হচ্ছে না।তবে আমরা বিষয়টি স্বাস্থ্য ভবনে জানিয়েছি।’
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন ধরনের সামাজিক প্রকল্প চালু করেন। এর মধ্যে অন্যতম শিশুদের হার্টের চিকিৎসা।শিশুসাথী প্রকল্পে গরিব,দুস্থ শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য এই প্রকল্প চালু করা হয়। প্রথম দিকে উত্তরবঙ্গের মধ্যে শিলিগুড়িতে বিভিন্ন নার্সিংহোমে এই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।প্রকল্প চালু হওয়ায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য গরিব মানুষ এতে উপকৃত হন।প্রচুর শিশুর বিনামূল্যে হার্টের চিকিৎসাও হয়। অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে শিলিগুড়ির নার্সিংহোমগুলির সঙ্গে রাজ্য সরকারের চুক্তি নিয়ে একটি ঝামেলা হয়।তার পর থেকে ওই চুক্তি আর হয়নি।ফলে এখন আর শিলিগুড়ি বা উত্তরবঙ্গের কোথাও শিশুসাথী প্রকল্পে হার্টের চিকিৎসা হচ্ছে না।
বর্তমানে কলকাতায় এই চিকিৎসা হয়।ফলে এই এলাকার গরিব পরিবারের শিশু কিশোরদের সরকারি খরচে হার্টের রোগের চিকিৎসার জন্য এখন কলকাতায় ছুটতে হয়। মানুষ কলকাতায় গিয়ে তারা নানা রকম সমস্যায় পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।তাই দ্রুত যাতে উত্তরবঙ্গে শিশুসাথী প্রকল্পের চিকিৎসা শুরু করা হয়, তার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
খগেনহাটের সমাজসেবী লক্ষ্মীকান্ত রায় বলেন, সামাজিক কাজ করার জন্য প্রচুর মানুষ রোজ নানা ধরনের সমস্যা নিয়ে আসেন।এর মধ্যে বিশেষ করে চা বাগান এলাকা থেকে গরিবরা তাঁদের সন্তানদের হার্টের চিকিৎসা সাহায্যের জন্য আসেন।কিন্তু জেলায় এই চিকিৎসার কোনো পরিকাঠামো না থাকায় তাঁদের সঠিক রাস্তাও বলে দিতে পারছি না।কলকাতায় গিয়ে তাঁদের পক্ষে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়।তাই শিশুসাথী প্রকল্পে জেলাস্তরে হার্টের চিকিৎসার ব্যবস্থ হলে এঁরা উপকৃত হবেন।
আলিপুরদুয়ারের ডেপুটি সিএমওএইচ–২ বলেন, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের হার্টের চিকিৎসার জন্য শিশুসাথী প্রকল্প চালু করা হয়।এখন উত্তরবঙ্গে এই চিকিৎসার সুযোগ না মিললেও কলকাতার এসএসকেএম এবং আরজিকর মেডিকেল কলেজে এই পরিসেবা মিলছে।আগামীতে যাতে জেলাস্তরেও শিশুসাথী প্রকল্পের চিকিৎসা মেলে তার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরে জানানো হয়েছে।

তথ্য- ভাস্কর শর্মা