বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে জাল বুনছে সীতা

151

মেখলিগঞ্জ: বাবার চিকিৎসার জন্য অর্থ জোগাড় করতে দিন রাত এক করে চেষ্টা চালাচ্ছে দশম শ্রেণির ছাত্রী সীতা দাস। মেখলিগঞ্জ তিস্তা নদীর বাঁধ সংলগ্ন ২৫ পয়েস্তি এলাকার বাসিন্দা সীতা। মেখলিগঞ্জ ইন্দিরা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত জাল তৈরি করেই দিন কেটে যায় তাঁর। একটি জাল তৈরি করতে ২০০ টাকা করে পারিশ্রমিক পায় সীতা। বাবা লালচাঁদ দাস মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫। সীতার এক ভাই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে ও এক বোন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। মাস ২ এক ধরে শারীরিক অসুস্থতার জন্য লালচাঁদ দাসের কাজ পুরোপুরি বন্ধ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে লালচাঁদ বাবু মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। পরবর্তী সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য জলপাইগুড়িতে যান। সেখানে পরীক্ষার পর তাঁর কিডনি তে পাথর ধরা পড়ে। মাস খানেক ঔষধ খাওয়ার পরও সমস্যা না মেটায় চিকিৎসক অপারেশনের কথা বলেন। অপারেশনের জন্য ৬০-৭০ হাজার টাকার প্রয়োজন। কিন্তু অসুস্থতার জন্য কাজ করতে না পারায় সংসার সামলে চিকিৎসার অর্থ নেই লালচাঁদ বাবুর। মেখলিগঞ্জে দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য আবেদন করলেও এখনও কার্ড হাতে পায়নি পরিবারটি।

- Advertisement -

সীতা দাস জানান, বাবার কিডনিতে পাথর হওয়ায় চিকিৎসক বলেছে অপারেশন করতে হবে। কিন্তু আমি পড়াশুনো করব। পাশাপাশি বাবাকেও সুস্থ করে তুলব। মাস খানেক ধরে জাল বুনে বাবার চিকিৎসার জন্য ৭ হাজার টাকা জমা করেছি।

সীতার বাবা লালচাঁদ দাস বলেন, ‘মেয়ের কাজের ওপর ভিত্তি করে কোনওরকমে সংসার চলছে। চিকিৎসার অর্থ নেই। কাজ করতে পারিনা। আমি মারা গেলেও মেয়েকে পড়াশুনা চালিয়ে যেতেই হবে।’ মেখলিগঞ্জের সমাজকর্মী কুণাল নন্দী বলেন, ‘দশম শ্রেণীর ছাত্রীর বাবাকে সুস্থ করে তোলার এই সংগ্রামকে কুর্ণিশ জানাই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সীতা দাসের পড়াশুনার সমস্ত খরচ বহন করার দায়িত্ব নিয়েছি। কোনও সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থা যদি সীতার বাবার চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসে তবে খুব ভালো হয়।’