স্কুলেই মন, শুধু ছুটির দিন কাজে যাবে সীতা

57

রাজু সাহা, শামুকতলা : দুইদিন আগে পর্যন্ত খেতে ধান কাটার কাজ করেছে সীতা। স্কুল খুলেছে। তাই এখন মাঠে তার দিনমজুরির কাজ বন্ধ। এখন প্রতিদিন স্কুল যেতে চায় সীতা। সীতা হেমব্রম সাঁওতালপুর মিশন হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। বাড়ি শামুকতলার বানিয়াগাঁও আদিবাসী মহল্লায়। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে সে। টানা কুড়ি মাস স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক পড়া বাকি পড়ে রয়েছে। তাই যে কদিন স্কুল খোলা থাকবে প্রতিটা ক্লাস মন দিয়ে করে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে চায় সীতা। কিন্তু মাঠে দিনমজুরির কাজ না করলে সংসারের খরচ বা পড়ার খরচ কোথা থেকে জোগাড় হবে? তাই এখন শুধু ছুটির দিনে দিনমজুরির কাজ করবে সে।

সীতার বাবা লক্ষ্মণ হেমব্রম, মা রানি মারান্ডি দুজনেই দিনমজুর। দিনমজুরি করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনওমতে মা বাবা ও দুই মেয়ে মিলিয়ে চারজনের সংসার চলে। সংসারের অভাব নিত্যসঙ্গী। অতিমারির কারণে সংসারের অভাব আরও জাঁকিয়ে বসেছিল। এতদিন সংসারে অভাব মেটাতে এবং নিজেদের পড়ার খরচ জোগাতে প্রতিদিন সীতা দিনমজুরের কাজ করেছে। কখনও ধান গাড়া, কখনও ধান কাটার কাজ করেছে। আবার জমির অন্যান্য কাজও করেছে সে। সীতার দিদি সুনীতা কলেজে পড়েন। মা-বাবার সঙ্গে দুই বোনই দিনমজুরির কাজ করেছে। স্কুল-কলেজ খুলে গিয়েছে। তাই সীতা-সুনীতা এখন পড়ায় মন দিতে চায়। মা রানি মারান্ডি জানান, আমরা স্বামী-স্ত্রী দিনমজুরি করলেও তা দিয়ে সংসারে সচ্ছলতা আসে না। তাই দুটি মেয়ে সংসারের অভাব মেটাতে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে যায়। আগে শুধু ছুটির দিন কাজে যেত। স্কুল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন কাজ করেছে। ওদের দুই বোনের আয়ের সংসারের অভাব অনেকটা মিটছিল। স্কুল খুলে যাওয়ায় আমরাও চাই না ওরা মাঠে কাজ করুক। মেয়ে দুটিও ক্লাসে ফিরেছে।

- Advertisement -

শামুকতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আদিবাসী অধ্যুষিত ছোট্ট গ্রাম বানিয়াগাঁও। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র দিনমজুর। সাঁওতালপুর মিশন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মালতী মেরি মারান্ডি জানান, সীতা আমাদের স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ওর পড়াশোনায় যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেটা অবশ্যই দেখব। পড়ার জন্য ওর আগ্রহ এবং পরিশ্রম দেখে খুব ভালো লাগছে।