নতুন ধানে পুজো সিতেশ্বরী মায়ের

413

গাজোল: মাঠে মাঠে সবুজ ধান ক্রমেই হয়েছে সোনালি। এখন সেই ফসল কেটে ঘরে তোলার অপেক্ষা। প্রতিবছরই মাঠ থেকে ধান ঘরে তোলার আগে পুজো দেওয়া হয় সিতেশ্বরী মায়ের। এই এলাকায় এটিই নিয়ম। সাড়ে তিনশ বছর ধরে এভাবেই সিতেশ্বরী মায়ের পুজোকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন গ্রামবাসীরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি, পূর্বপুরুষদের রীতি মেনে এই পুজো দেওয়ার পর থেকেই গ্রামবাসীরা তাদের জমির ধান কাটতে শুরু করেন। প্রতিবছরই কার্তিক মাসের প্রথম শনিবার অথবা মঙ্গলবার এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। গাজোলের কদুবাড়ি সিতেশ্বরী গ্রাম পুজো কমিটির উদ্যোগে এবছরও পুজোয় মেতে উঠলেন এলাকাবাসীরা। যদিও এই পুজোতে কোনও মূর্তি পুজো হয়না।

গ্রামে বেশকিছু ধান রয়েছে সেই ধান গুলিকেই দেবতা হিসেবে পুজো করা হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন। পুজোর আগের দিন থেকেই এলাকার ভক্তরা ও পরিবারের লোকজন নিরামিষভোজন করে থাকেন। পুজোর দিন উপবাস করেন প্রায় সকলেই। অনেকে আবার ছাগ বলি ও দেন। তবে করোনা প্রকোপের জন্য এবছর পুজো বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। বিগত বছরে এই পুজোকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে কিন্তু করোনা আবহে সমস্ত কিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। পুজোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পুজোর আয়োজন করা হয়।

- Advertisement -

পুজো কমিটির সভাপতি অশোক সরকার, সম্পাদক নরেন্দ্রনাথ সরকাররা জানান, আমাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকেই এই পুজো আসছে। পুজোর আগের দিন থেকে গ্রামের সকলেই নিরামিষভোজন করে থাকেন। পুজোর দিন মা বোনেরা সহ অনেকেই উপোস করে পুজোতে ভোগ নিবেদন করেন। বিগত দিনে পূজাকে কেন্দ্র করে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত বর্তমানে করোনার জন্য সমস্ত রকম অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করছি আগামীতে করোনা মহামারীর প্রকোপ কমে গেলে আগামী বছর বড় করে ধুমধাম করে পুজো করব। বিগত বছরগুলিতে প্রচুর ভক্তদের সমাগম লক্ষ্য করা যায় কিন্তু বর্তমানে করোনার জন্য বেশি ভক্তদের সমাগম করতে দেওয়া হয়নি। অনেকেই করোনার জন্য আসেননি পুজো প্রাঙ্গণে। পুজো প্রাঙ্গণে ভক্তদের হাতে স্যানিটাইজার দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভক্তদের পুজো দেওয়ার আবেদন জানানো হয় পুজো কমিটির তরফে।

গ্রামবাসী বিপুল সরকার ও তাপসী সরকার জানান, আমরা বিগত দিন ধরে এই পুজো করে আসছি। যদিও করোনা প্রকোপ রয়েছে তাই মন অনেকটা ভার হয়ে রয়েছে। মন খারাপের মধ্য দিয়ে পুজোয় অংশগ্রহণ করতে হয়েছে সপরিবারে। বিগত বছর গুলিতে এই পুজোকে কেন্দ্র করে অনেক আনন্দ উৎসবে মেতে উঠতাম। বাইরে থেকে আত্মীয়-স্বজন আসত এই পুজোতে অংশগ্রহণ করতে। তবে করোনার প্রকোপে পুজোয় প্রাঙ্গণে উপস্থিতি এবার ছিল অনেকটা কম। সিতেশ্বরী মায়ের কাছে প্রার্থনা করি যাতে খুব তাড়াতাড়ি করোনা প্রকোপ দূর হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে অনেকেই নানারকম মানত করে থাকেন। পুজোতে মানত হিসেবে অনেকে পাঁঠা বলিও দেয়। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলার আগে প্রতিবছরই মাকে পুজো দিয়ে থাকি আমরা।