দলীয় পতাকা টাঙাতে গিয়ে তৃণমূলের হাতে প্রহৃত ছয় বিজেপি কর্মী

203

বর্ধমান: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার পূর্ব বর্ধমান জেলায় আগমন উপলক্ষ্যে দলীয় পতাকা টাঙাতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হলেন ৬ বিজেপি কর্মী। তাদের রাস্তায় ফেলে রড, লাঠি, বাঁশ, কাটারি প্রভৃতি দিয়ে ব্যাপক মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতৃত্বে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুঁষছে জেলার জামালপুর থানার বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের জামুদহ ও চক্ষনজাদী এলাকা। ফের যাতে গোলযোগ অশান্তির ঘটনা না ঘটে তার জন্য ওই এলাকায় জারি রয়েছে পুলিশি তৎপরতা।

আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করান। শুক্রবার বেলায় তাঁরা হামলাকারী তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন। জামুদহ গ্রামবাসী বিজেপি কর্মী রাধাকান্ত পুইলে জানিয়েছেন, একগুচ্ছ রাজনৈতিক কর্মসূচীতে যোগ দিতে শনিবার পূর্ব বর্ধমানে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তাঁর জেলায় আগমন উপলক্ষ্যে বিজেপির তরফে বেরুগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন জায়গায় দলের পতাকা টাঙানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

- Advertisement -

রাধাকান্ত পুইলে জানিয়েছেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি সহ ছয়জন বিজেপি কর্মী মিলে জামুদহ গ্রাম থেকে স্থানীয় চক্ষণজাদী গ্রামের আদিবাসী পাড়ায় বিজেপির দলীয় পতাকা টাঙাতে যান। পতাকা টাঙিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ সেখান থেকে ফেরার সময় এলাকার তৃণমূল নেতা শেখ ফিরোজের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন তৃণমূলকর্মী তাদের পথ আটকায়। এরপরই তাঁরা তাঁদের রাস্তায় ফেলে রড, লাঠি, বাঁশ ও কাটারি দিয়ে ব্যাপক মারধোর করে। তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের প্রাণে মেরে দিতে উদ্যত হয়। এই খবর পেয়ে দলের অপর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে জামালপুর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। জামালপুর বিধানসভার বিজেপি কনভেনার জীতেন ডকাল জানিয়েছেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।

বিজেপির আনা এই অভিযোগ যদিও অসত্য বলে দাবি করেছেন জামালপুরের তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান। পালটা অভিযোগে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাসনেহারা বেগম পঞ্চায়েত অফিস থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। ওই সময়ে ওই বিজেপির লোকজন তাকে দেখে নানা কটুক্তি করতে শুরু করে। তা দেখে  এলাকার লোকজন রুখে দাঁড়ায়। এসব নিয়ে গোলযোগ অশান্তির ঘটনা ঘটে। তা আড়াল করতে বিজেপির নেতা ও কর্মীরা তৃণমূল কর্মীদের নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।