ছয় ঝোরার সেতু নির্মাণ শেষ হয়নি, বর্ষায় ভোগান্তির আশঙ্কা

257

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : লকডাউনের আগে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ জেলার ছয়টি ব্লকে ছয়টি ঝোরার উপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু লকডাউনের জন্য মাঝপথে ওই কাজ থমকে যায়। এবার বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় সময়ে ওই সেতুগুলি নির্মাণ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফালাকাটার মনোরঞ্জন কর্মকার, কুমারগ্রামের অজয় রায়ের মতো বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভরা বর্ষার আগেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না করা গেলে এবারও দুর্ভোগ পোহাতে হবে। অনেকের আশঙ্কা, বেশি বৃষ্টি হলে জলের তোড়ে অসমাপ্ত সেতুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ছয়টি ব্লকেই এই ঝোরাগুলির উপর কোথাও পাকা সেতু ছিল না। সারা বছর ঝোরার উপর কাঠের বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রতি বর্ষাতেই ওই অস্থায়ী সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, ঝোরাগুলির উপর সেতু তৈরি করা হোক। সেই দাবি অনুযায়ী জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ঝোরার উপর সেতু নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে সুখানিঝোরা, আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের টটপাড়ার হাঁড়িভাঙ্গা ঝোরা, কালচিনি ব্লকের ভার্নাবাড়িতে ভোলানালা ঝোরা, মাদারিহাট ব্লকের বান্দাপানি এলাকার বিরবিটি ঝোরা, ফালাকাটা ব্লকের কুঞ্জনগরের বুড়িতোর্ষা ঝোরা এবং কুমারগ্রাম ব্লকের ঘোড়ামারা ঝোরার উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ছয়টি ব্লকে ছয়টি ঝোরার উপর সেতু নির্মাণ করতে প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। এরপর টেন্ডার ডেকে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে সেতুর কাজ শুরু করা হয়। লকডাউনের আগেই কাজ শুরু করে জেলা পরিষদ। ইতিমধ্যেই সেতু নির্মাণের কাজ কোথাও অর্ধেক হয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও শুধু সেতুর পিলার তৈরি হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজই এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়ে য়াওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। তবে জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ার পরই নির্মাণকাজ ফের শুরু হয়। এবার আরও শ্রমিক দিয়ে দ্রুত অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হবে। বর্ষার আগেই যাতে সেতুগুলি তৈরি হয়ে যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে বলেন, লকডাউনের মধ্যেও আমরা সরকারি নিয়ম মেনে সেতু নির্মাণের কাজ চালিয়েছি। আমাদের আশা, বর্ষার আগেই ছয়টি সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারব।