জাল আধার কার্ড তৈরি চক্রের ছয় পাণ্ডা গ্রেপ্তার

2040

বর্ধমান: জাল আধার কার্ড তৈরি চক্রের ছয় পাণ্ডাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। রবিবার বিকালে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার পুলিশ পালিশগ্রামে থাকা জালিয়াতদের ডেরায় হানা দিয়ে ছয় জনকে ধরেফেলে। জেরায় ধৃতরা জাল আধার কার্ড তৈরির কথা কবুল করার পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের ডেরা থেকে পুলিশ জাল আধার কার্ড তৈরির কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, স্ক্যানার ও প্রিন্টার বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে মঙ্গলকোটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা মোরসেলিম শেখ, নুর আলম শেখ, রবিউল আলম শেখ, তাহের শেখ, শামীম শেখ ও দেবজ্যোতি মল্লিক। ধৃতদের মধ্যে দেবজ্যোতি শুধুমাত্র শহর বর্ধমানের বাসিন্দা। বাকি ধৃতদের বাড়ি মঙ্গলকোটের কৈতন, নিমতা, পালিশগ্রাম ও ধরমপুরে। জালিয়াতি ও প্রতারণার একাধীক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ সোমবার ছয় ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করে। বিচারক ধৃতদের জামিন নামাঞ্জুর করে বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে ৪ নভেম্বর ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত রয়েছে এবং চক্রে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

- Advertisement -

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, দেশের নাগরিকদের আধায় কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। সরকারী যেকোন কাজে এখন নাগরিকদের আধারকার্ড দাখিল করতে হচ্ছে। সিএএ, এনআরসি পাশ হওয়ার পর থেকে আধার কার্ড তৈরির জন্য মঙ্গলকোটের বাসিন্দারাও উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। পুলিশ জানিয়েছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মঙ্গলকোটে সক্রিয় হয় এই জাল আধার কার্ড তৈরির চক্রটি। তারা মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামে একটি কাউন্টার খুলে বসে। মঙ্গলকোটের বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ আধার কার্ড করানোর জন্য সেখানে হাজির হচ্ছিলেন।

৬০০-৮০০ টাকা দিলেই ওই কাউন্টার থেকে মিলছিল আধার কার্ড। তবে ব্যাঙ্ক কিংবা পোস্ট অফিসে ওই আধার কার্ড দাখিল করার পর অনেকেই জানতে পারেন ওই কাউন্টার থেকে তাঁদের জাল আধার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পারেন মঙ্গলকোট থানার ওসি মিথুন ঘোষ। পুজোর ছুটির সময়ে রবিবার বিকালেও ওই কাউন্টারে আধার কার্ড কারার কাজ চলছে জেনে ওসি অন্য পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে হানা দেন। সবকিছু খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিৎ হয় প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অপরের আধার কার্ডের ডাটাএন্ট্রি চুরি করে ছয় প্রাতারক মিলে জাল আধার কার্ডের কারবার চালাচ্ছে। এরপরেই ছয়জনকে ধরে পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। জেরায় ধৃতরা জাল আধার কার্ড তৈরির কথা কবুল করার পরেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।