ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : আগামী জানুয়ারি মাসেই আকাশে উড়বে ছয় শকুন। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের (বিটিআর) রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে ছাড়া হবে ওই শকুনগুলিকে। এর জন্য প্রযোজনীয় অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রক। মন্ত্রকের ওই সিদ্ধান্তে খুশি রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্রের কর্মী থেকে আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই খোলা আকাশে মুক্তির তালিকায় থাকা ছয় হিমালয়ান গ্রিফন প্রজাতির শকুনের পিঠে বাইশগ্রাম করে ওজনের নকল ব্যাকপ্যাক বসানো হয়েছে। প্রজনন কেন্দ্রের ভিতরেই তাদের ছেড়ে দিয়ে আকাশে ওড়ার মহড়াও দেওয়া হচ্ছে। আসল ব্যাকপ্যাকের ভিতরে থাকবে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিশন ট্যাগ। যা ইতিমধ্যেই আমেরিকা থেকে কিনে এনেছে বন দপ্তর। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ফিল্ড ডিরেক্টর শুভঙ্কর সেনগুপ্ত বলেন, এই যন্ত্রাংশের সর্বমোট ওজন হবে বড়জোর বাইশ গ্রাম। আর সেই কারণেই এই নকল ব্যাকপ্যাকের ওজন রাখা হয়েছে বাইশ গ্রাম। এই ব্যাকপ্যাক নিয়ে খোলা আকাশে শকুনের যাতে উড়তে কোনো অসুবিধে না হয় সেই কারণেই এই নকল ব্যাকপ্যাক লাগিয়ে এখন মহড়ার কাজ চলছে।
বিটিআর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০০৬ সালে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শকুন প্রজনন কেন্দ্র চালু করে বন দপ্তর। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিলুপ্তপ্রায় শকুন উদ্ধার করে ওই প্রজনন কেন্দ্রে রেখে তাদের বংশ বৃদ্ধি করা শুরু হয়। বর্তমানে রাজাভাতখাওয়া শকুন প্রজনন কেন্দ্রে চার প্রজাতির মোট ১৩০টি শকুন রয়েছে। এই চার প্রজাতির শকুন হচ্ছে স্ল্যান্ডার বিল্ড, লং বিল্ড, হোয়াইট ব্যাক বিল্ড এবং হিমালয়ান গ্রিফন প্রজাতির শকুন।
তবে দীর্ঘদিন থেকেই এই শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকেও খোলা আকাশে শকুন ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বনদপ্তর। তার জন্য প্রস্তুতিও চালায় তারা। জানা গিয়েছে, ভারতে প্রথম হরিয়ানার পিঞ্জরে শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে প্রথম খোলা আকাশে শকুন ছাড়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রকের অনুমতি নিযে শকুন প্রজনন কেন্দ্র থেকে বাইরে ছাড়া হয়েছিল। তার চার বছরের মাথায হরিয়ানা মডেলকে এবার এই রাজ্যের রাজাভাতখাওয়াতেও প্রযোগ করতে চাইছে কেন্দ্রীয টেলিকম মন্ত্রক।

মুম্বই ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির পক্ষী বিশারদ শচীন রানাডে বলেন, রাজাভাতখাওয়া থেকে খোলা আকাশে শকুন ছাড়তে কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রকের অনুমতি মিলেছে। শুধু তাই নয় আমরা ছয়টি শকুনকে রিলিজ এভিয়ারি অর্থাত্ খোলা পরিবেশে ছাড়ার জন্য বিশেষ যে জায়গা তৈরি করা হয়েছে সেখানে ছেড়েও দিয়েছি। সেখানে নকল ব্যাকপ্যাক লাগিয়ে কিছুদিন তাদের মহড়া চলবে। পরবর্তীতে তারা যাতে বাইরের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে তাই ওই উদ্যোগ বলে পক্ষী বিশারদ জানিযেেন।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা বলেন, আগামী জানুযারি মাসেই ছয় শকুনকে আকাশে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিযেি। ইতিমধ্যেই এই ছয় শকুনকে সাধারণ এভিয়ারি থেকে রিলিজ এভিয়ারিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখানে চলছে তাদের মহড়া। এখন দপ্তরের শীর্ষ স্থান থেকে অনুমতি পেলেই এই শকুন ছাড়ার দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।