দুর্ঘটনায় মৃত্যু একই গ্রামের ছয় শ্রমিকের, শোকের ছায়া বৈষ্ণবনগরে

96

বৈষ্ণবনগর: শিবরাত্রি পূজা পরিবারের সকলের সঙ্গে মিলেমিশে একসঙ্গে পালন করবার জন্যই মুর্শিদাবাদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন একই গ্রামের ১২ জন শ্রমিক। কিন্তু আর ফেরা হলো না। বাড়ি ফেরার পথে পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন বৈষ্ণবনগরের সুকদেবপুর গ্রামের পাঁচ জন শ্রমিক। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো সাত জন।ফলে গোটা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গ্রামে ঢুকলেই শোনা যাচ্ছে কান্নার রোল। গ্রামে কাজ না থাকার ফলে মুর্শিদাবাদের লালখান্দিয়া এলাকায় জমিতে মটর ও সরিষা কাটার জন্য শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন।

বৈষ্ণবনগরের বাখরাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের সুকদেবপুর গ্রামের প্রায় ৪০ জন শ্রমিক। মাসখানেক পরে বৃহস্পতিবার সকালে সুকদেবপুর গ্রামের ১২ জন বাড়ি ফিরে আসার উদ্দেশ্যে একটি ছোট গাড়িতে চেপে বসেন। জঙ্গিপুর পেরিয়ে কিছুদূর আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই গাড়িটি শ্রমিক বোঝাই দাড়িয়ে থাকা আরও একটি গাড়িকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৫ জনের। এর মধ্যে ২ জন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন নিখিল মন্ডল (৪৭) নিবারণ মন্ডল(৫০) সুবোধ মণ্ডল(৬০) আফরাজুল শেখ (২৫)ও ফিরোজ শেখ(২৮) এদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বৈষ্ণবনগরের সুকদেবপুর গ্রামে। আফরাজুল শেখ ও ফিরোজ শেখের বাড়ি মুর্শিদাবাদে। গাড়ির মধ্যে বেশ কয়েক জন গুরুতর আহত হন। আহতদের জঙ্গিপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই জনার্দন মণ্ডল নামে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। অপরদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় বাবুল মন্ডল(৩০) কে মালদা শহরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে বাবলু মণ্ডলের মৃত্যু হয় বলে খবর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই তিনজনের মৃতদেহ রাত দশটা নাগাদ গ্রামে পৌঁছে যায়। প্রায় রাত বারোটা নাগাদ তাদের সব দেহ দাহ করা হয়। তবে জনার্দন মন্ডলের মৃত্যু দেহ দুপুর আড়াইটে নাগাদ গ্রামে আসে।একই গ্রামের ৫ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে গোটা গ্রাম প্রায় মুষড়ে পড়েছে। জনার্দন মণ্ডলের স্ত্রী প্রমীলা মণ্ডল জানান, স্বামীর মৃত্যুতে গোটা পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। গ্রামের বাসিন্দা ফাগুলাল মণ্ডল জানান, একই গ্রামে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। সরকার যেন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়।

- Advertisement -