আজ ষষ্ঠ দফা, ৪৩ আসনে ৩০৬ প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা

91
প্রতীকী ছবি।

কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাজ্যে ষষ্ঠ দফার ভোটগ্রহণ। এই পর্বে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ৪৩টি বিধানসভা আসনে ৩০৬ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এর মধ্যে ২৭ জন মহিলা। এঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ১ কোটি ৩ লক্ষ ভোটদাতা। এর মধ্যে রয়েছেন ৫০ লক্ষ ৬৫ হাজার মহিলা ও ২৫৬ জন ততীয় লিঙ্গের ভোটার। ভোটগ্রহণ হবে ১৪,৪৮০টি পোলিং বুথে।

তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি সবকটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। তবে বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফের সংযুক্ত মোর্চা মিলিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। এর মধ্যে সিপিএম লড়ছে ২৩টি, কংগ্রেস ১২টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ৪ ও সিপিআই ২টি আসনে লড়াই করছে।

- Advertisement -

এই দফার ভোটে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের ভাগ্য পরীক্ষা হবে। তার পাশাপাশি রয়েছেন কয়েকজন সেলেব্রিটিও। অনেকের নজরই এবার রয়েছে কৃষ্ণনগর উত্তর আসনের দিকে। কারণ, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি মুকুল রায়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃণমূলের প্রার্থী অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়। রাজনীতির অঙ্কে বিজেপি অনেক এগিয়ে থাকলেও ভোট পরিচালনা করে অভ্যস্ত মুকুল নিজে ভোটের ময়দানে তেমনভাবে পরীক্ষিত যোদ্ধা নন। এবারের ভোটেও তাঁকে প্রচারে তেমন সক্রিয়ভাবে পাওয়া যায়নি। কৃষ্ণনগর দক্ষিণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃণমূলের উজ্জ্বল বিশ্বাস।

পূর্বস্থলী দক্ষিণে তৃণমূলের স্বপন দেবনাথ, দমদম উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এঁরা তিনজনই তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। দমদম উত্তরে চন্দ্রিমার বিরুদ্ধে লড়ছেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য। প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের মধ্যে এই দফার নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারিত হবে রায়গঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্ত, বাদুড়িয়ার আব্দুস সাত্তার, ইসলামপুরের তৃণমূল প্রার্থী আবদুল করিম চৌধুরী, নবদ্বীপের তৃণমূল  প্রার্থী পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা, ইটাহারের সিপিআই প্রার্থী শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায়। হাবড়ায় তৃণমূলের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার লড়াইও উপভোগ্য হবে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এই পর্যন্ত রাহুলবাবু নির্বাচনি ময়দানে কখনও জয় পাননি। লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই উত্তপ্ত হয়ে আছে ব্যারাকপুর মহকুমা।

 এহেন গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে রাজনীতিতে নেমেই তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়েছেন চিত্রপরিচালক রাজ চক্রবর্তী। ২০১৬ সালে বর্ধমানের কাটোয়া থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। আবারও সেখানেই প্রার্থী হয়েছেন তিনি। রিজওয়ানুর রহমানের রহস্যমৃত্যুর পর ২০১১ সালে তাঁর দাদা রুকবানুর রহমান নদিয়ার চাপড়া থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হন। সেই থেকে পরপর দুবারের বিধায়ক। এবারেও শাসকদলের টিকিটে তিনি লড়ছেন ওই কেন্দ্র থেকেই। ২০১১ সাল থেকে চাকুলিয়ার বিধায়ক ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী আলি ইমরান রামজ। এবারেও চাকুলিয়া কেন্দ্রে লড়ছেন তিনি।

সাধারণভাবে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের নিরিখে এই দফার নির্বাচনে অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল। কারণ ৪৪.৮৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩২টি আসন দখল করেছিল তারা। ২১.৮৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩টি আসন দখল করেছিল সিপিএম। ১১.৭১ শতাংশ ভোট পেয়ে ৭টি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। ৩.৯৯ শতাংশ ভোট পেয়ে একটি আসন পেয়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। কিন্তু ১০.৭৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ওই নির্বাচনে বিজেপি একটি আসনও ঘরে তুলতে পারেনি। যদিও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে বিজেপির উত্থান শুরু হয়।

এবারের ভোটে বেশকিছু আসনে উল্লেখযোগ্য ইস্যু হিসেবে কাজ করবে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন। কয়েকটি আসনে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট প্রভাবিত করবে রাজনীতিকে। অন্যদিকে, ব্যারাকপুর মহকুমায় হিংসার রাজনীতি অব্যাহত থাকে কিনা, তা দেখাও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৭৭৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এই ৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে নামানো হয়েছে। যদিও ব্যারাকপুরে ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে থেকেই বিস্ফোরণ শুরু হয়ে গিয়েছে। কমিশন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে পরিস্থিতির ওপরে। ব্যারাকপুরের জন্য রফিকুল আলম লস্কর নামে অতিরিক্ত একজন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

এই দফার নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সীমান্তবর্তী কেন্দ্রগুলিও রয়েছে। বৃহস্পতিবার এই জন্য পেট্রাপোল সীমান্ত বন্ধ থাকছে। প্রতিটি নির্বাচনের আগেই অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি প্রশ্ন তোলে। তাই এবার সেই ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।